Sunday, 1 August 2021

শ্রাবণের সোমবার




🙏শ্রাবণ মাসের  প্রথম সোমবার🙏           🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿


বাবা তারকনাথ মন্দির হল হুগলি জেলার তারকেশ্বর শহরের একটি মন্দির। এটি দেবতা শিবের মন্দির। এই মন্দিরে শিবকে "তারকনাথ" নামে পূজা করা হয়। ১৭২৯ সালে নির্মিত এই মন্দিরটি একটি আটচালা মন্দির। মন্দিরের সামনে একটি নাটমন্দির আছে। মন্দিরের কাছে কালী ও লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দির আছে। শিবমন্দিরের উত্তর দিকে দুধপুকুর নামে একটি পুকুর আছে। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, এই পুকুরে ডুব দিয়ে স্নান করলে যাবতীয় মনস্কামনা পূর্ণ হয়।সারদা দেবী একাধিকবার এই মন্দিরে পূজা দিতে এসেছিলেন।
🌿🌿

স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে, রাজা ভরমল্ল তারকেশ্বরের কাছে জঙ্গলে একটি শিবলিঙ্গের স্বপ্ন দেখেন। এরপর তিনি এই স্বয়ম্ভু লিঙ্গটি খুঁজে বের করেন। ১৭২৯ সালে "বাবা তারকনাথ" নামে পরিচিত এই লিঙ্গের উপর আধুনিক মন্দিরটি গড়ে ওঠে।
🌿🌿

সারাবছরই এই মন্দিরে তীর্থযাত্রীরা আসেন। বিশেষত সোমবারে এই মন্দিরে বেশি তীর্থযাত্রী সমাগম হয়। ফাল্গুন মাসে (ফেব্রুয়ারি-মার্চ) শিবরাত্রি ও চৈত্র মাসে (মধ্য এপ্রিল) গাজন উৎসবে প্রচুর তীর্থযাত্রী তারকেশ্বরে আসেন। শ্রাবণ মাস (জুলাই-অগস্ট) শৈবদের কাছে বিশেষ পবিত্র মাস। এই মাসের সোমবারগুলিতেও তারকেশ্বরে প্রচুর তীর্থযাত্রী আসেন।
🌿🌿

মহাশিবরাত্রি ও চৈত্র সংক্রান্তিতে তারকেশ্বর মন্দিরে বিশেষ উৎসব হয়। প্রতি সোমবার হয় বিশেষ পূজা। তবে, শ্রাবণের সোমবারগুলিতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে তারকনাথকে গঙ্গোদকে স্নান করানোর উদ্দেশ্যে। বর্তমানে করোনা মহামারীর কারনে সমস্ত উৎসব বন্ধ আছে।
🌿🌿


আজ শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সোমবার।

জয় বাবা কেদারনাথ🙏🏻🌿🌹

প্রসঙ্গত, হিন্দু শাস্ত্রে মতে শ্রাবণ মাসে শিবের ক্ষমতা প্রায় ১০৮ গুণ বেড়ে যায়। তাই তো এই সময় উপোস এবং বিশেষ পুজোর আয়োজন করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।  এখন প্রশ্ন হল কী কী নিয়ম মেনে দেবাদিদেবের আরাধনা করলে এইসব উপকার মিলতে পারে? প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলি হল…
১. আকি চক্রকে অ্যাকটিভ করতে হবে: দেবের পুজো শুরু করার আগে একেবারে প্রথম কাজ হবে দেবের ছবি বা মূর্তির সামনে বসে চোখ বন্ধ করে এক মনে দুচোখের মাঝের অংশ, যেখানে আকি চক্র থাকে, সেই অংশে এক মনে ফোকাস করতে হবে। এমনটা করলে বিশেষ এই চক্রটি অ্যাকটিভ হবে। এই সময় এক মনে দেবের নাম নিলে আশেপাশে পজেটিভ শক্তির মাত্রা এতটা বেড়ে যাবে যে সুফল মিলতে সময় লাগবে না।
২. অভিষেক স্নানের পালা: অকি চক্রকে অ্যাকটিভ করার পরের ধাপ হল গঙ্গা জল দিয়ে দেবকে ভাল করে স্নান করাতে হবে। আর যদি আপনার ঠাকুর ঘরে শিব ঠাকুরের মূর্তির পরিবর্তে ছবি থাকে, তাহলে পরিষ্কার একটা কাপড়, গঙ্গা জলে চুবিয়ে সেই কাপড় দিয়ে ছবিটা ভাল করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। আসলে এমনটা বিশ্বাস করা হয়, যে কোনও দেব-দেবীর আরাধনা করার সময় যদি তাঁর ছবি বা মূর্তি পরিষ্কার করে নেওয়া না হয়, তাহলে খারাপ শক্তির মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকে। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা পুজো করেও কিন্তু সুফল মেলে না।
৩. পঞ্চমৃত: এবার দুধ, দই, ঘি এবং মধু মিশিয়ে পঞ্চমৃত বানিয়ে ফেলুন। তবে এক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা হল এই প্রসাদটি বানানোর সময় ভুলেও তাতে চিনি দেবেন না যেন! তবে যদি ইচ্ছা করে তাহলে অল্প করে গুড় দিতে পারেন।


৪. কাপড়: এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে দেবের অরধানা করার যদি নতুন কোনও কাপড় তার সামনে রেখে পুজো শুরু করা হয়, তাহলে দেব বেজায় প্রসন্ন হন। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন, তা হল সাদা রঙের সুতো দেবের সামনে রেখে পুজো করে যদি হাতে পারতে পারেন, তাহলে কোনও বিপদ ঘটার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।
৫. ফুল, চন্দন এবং সুগন্ধি: এবার দেবের সারা শরীরে ভাল করে চন্দন লেপে তার সামনে ফুল পরিবেশন করে অল্প করে সুগন্ধি ছড়িয়ে দেবেন। কারণ সারা বাড়ি এবং ঠাকুর ঘর সুন্দর গন্ধে ভরে উঠলে খারাপ শক্তির প্রভাব কমতে থাকবে, বাড়তে থাকবে শুভ শক্তির মাত্রা। ফলে গৃহস্থে পবিত্রতার ছোঁয়া লাগবে। আর পবিত্র স্থানই তো দেবের স্থান, তাই না!


৬. ধূপ-ধুনো জ্বালান: দেবকে সাজানোর পর ধুপ-ধুনো জ্বালিয়ে মনে মনে কম করে ১০৮ বার “ওম নমঃ শিবায়”, এই মন্ত্রটি জপ করা শুরু করুন। ইচ্ছা হলে “ওম রুদ্রায় নমহঃ” মন্ত্রটিও জপ করতে পারেন
৭. সবশেষে: মন্ত্রচ্চারণ করে দেবের অরাধনা করার পর আরতি করে শেষ করতে হবে পুজো। এরপর সাতবার শিব ঠাকুরের ছবি বা মূর্তিকে প্রদক্ষিণ করতে করতে মনের ইচ্ছা জানাতে হবে সর্বশক্তিমানকে।

      🕉️-----#রামকৃষ্ণ🌺🙏🏻





🙏আজ শ্রাবনের তৃতীয় শুভ সোমবার
🙏

      🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿

সর্বোচ্চ স্তরে ভগবান শিবকে সর্বোৎকর্ষ, অপরিবর্তনশীল পরম ব্রহ্ম মনে করা হয়। শিবের অনেকগুলি সদাশয় ও ভয়ঙ্কর মূর্তিও আছে। সদাশয় রূপে তিনি একজন সর্বজ্ঞ যোগী। তিনি কৈলাস পর্বতে সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করেন। আবার গৃহস্থ রূপে তিনি পার্বতীর স্বামী। তার দুই পুত্র বর্তমান। এঁরা হলেন গণেশ ও কার্তিক। ভয়ঙ্কর রূপে তাকে প্রায়শই দৈত্যবিনাশী বলে বর্ণনা করা হয়। শিবকে যোগ, ধ্যান ও শিল্পকলার দেবতাও মনে করা হয়। এছাড়াও তিনি চিকিৎসা বিদ্যা ও কৃষিবিদ্যারও আবিষ্কারক।

শিবমূর্তির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল তার তৃতীয় নয়ন, গলায় বাসুকী নাগ, জটায় অর্ধচন্দ্র, জটার উপর থেকে প্রবাহিত গঙ্গা, অস্ত্র ত্রিশূল ও বাদ্য ডমরু। শিবকে সাধারণত ‘শিবলিঙ্গ’ নামক বিমূর্ত প্রতীকে পূজা করা হয়। সমগ্র সমাজে শিবপূজা প্রচলিত আছে। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা রাষ্ট্রে বাংলাদেশের ও পাকিস্তানের কিছু অংশে শিবপূজার ব্যাপক প্রচলন লক্ষিত হয়। সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহে শিব পূজা কে সর্বশ্রেষ্ঠও সর্বাধিক ফলপ্রদ বলে বর্ণনা করা হয়ে।
*********************
ওঁ নমঃ শিবায় 🌿🙏
হর হর মহাদেবায় 🌿🙏
জয় শিবোশম্ভু 🌿🙏
************


আজ শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে প্রভুর কাছে  জগতের মঙ্গল কামনা করি 🙏🙏🙏...






সর্ব খর্বতারে দহে তব ক্রোধদাহ--
হে ভৈরব, শক্তি দাও, ভক্ত-পানে চাহো ॥
দূর করো মহারুদ্র   যাহা মুগ্ধ, যাহা ক্ষুদ্র--
মৃত্যুরে করিবে তুচ্ছ প্রাণের উৎসাহ ॥
দুঃখের মন্থনবেগে উঠিবে অমৃত,
শঙ্কা হতে রক্ষা পাবে যারা মৃত্যুভীত।
তব দীপ্ত রৌদ্র তেজে   নির্ঝরিয়া গলিবে যে
প্রস্তরশৃঙ্খলোন্মুক্ত ত্যাগের প্রবাহ ॥
পূজা পর্যায়..............

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।।



Tuesday, 13 July 2021

স্মৃতির কোঠায়

 



স্মৃতির কোঠায় জমে ওঠা তথ্যগুলিতে একবার চোখ বোলাতে গেলে ধরা পরে যায় অনেক ঘটনাই। যা উল্লেখ করার আগে "স্মৃতি " জিনিসটা আমাদের জীবনে কি রকম , সে সম্বন্ধে দু-চার কথা বলে নেওয়া মনে হয় ভালো  হবে। 

মস্তিষ্কে তথ্য ধারন করে রাখার প্রক্রিয়া কিংবা মস্তিষ্কে ধারনকৃত তথ্যকেই স্মৃতি বলে থাকি। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে তথ্য আহরন করে মস্তিষ্কে জমা করা হয় এবং দরকার  আনুযায়ী সেই তথ্য আবার ভান্ডার থেকে খুঁজে নিয়ে আসা  হয়। অর্থাৎ অতীতে যা শেখা / দেখা হয়েছে তাকে মনে করার মধ্যে স্মৃতির অস্তিত্ব বর্তমান।  তাইতো বলে "Memory is the  diary that we all carry with us. "  শিক্ষণীয় বিষয় বা পরিস্থিতি আমাদের সাথে সাথেই থাকে। স্মৃতির  একটা সুন্দর  দিক আমাদের কাছে ধরা দেয়। " You may have  lost things,  persons in your life.  But you can capture  them in your memories forever. " এর সাহায্যে বিষয়বস্তু আমাদের সামনে না থাকলেও মানসছবির সাহায্যেই বিষয়বস্তু সম্পর্কে চিন্তা বা ধারনা করতে পারি।স্মৃতিই বিষয়বস্তু মনে রাখতে পারে এবং প্রয়োজন মত আমাদের  মনে করিয়ে দেয়।

কথায় আছে---- " পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে, পুরোনো স্মৃতি রাতে বাড়ে।"  তবে রাতে বাড়ে কিনা জানিনা, কিন্ত  অবসর সময়ে বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতির সন্মুখীন হলে কোনোও এক অজানা শক্তি এই মনে জমে থাকা স্মৃতিগুলোকে নারাচারা দিয়ে উৎতক্ত করে তোলো। মনে পড়ে যায় ফেলে আসা দিনের কথা ::::

::  ছোটবেলায় বাঁ হাতে দুটো টিকা দেওয়া হত যার দাগ সারা জীবন থাকে।

:: জন্মানোর পর একুশ দিন  আতুর ঘরে থেকে পরে শুদ্ধ হয়ে ঘরে উঠতে হতো। 

:: সেই  ষষ্ঠীপুজোতে বাড়ীতে এক আলাদা আনন্দ ও গাম্ভীর্য  ছিল। 

:: ঠাকুমা বা অন্যেরা যে কেঁথা করে দিত, সেটাতো শিশুর এক আবশ্যিক  শষ্যা বলে ধরা হত। 

:: অন্নপ্রাশনের আগে চালের কোনো জিনিসই  বাচ্চাকে খেতে দেওয়া হত না।

:: একটু বড়ো হলে ঘুটের ছাই বা যে কোন দাতন দিয়ে দাঁত মাজতে শেখানো হত । তারপর দাত মাজতাম কলগেটের সাদা পাউডার মাজন দিয়ে। Forhans Tooth Pest এর কথা মনে পরে। এর বিঞ্জাপনে লেখা হত _____ এটি একটি দাঁতের ডাক্তারের তৈরি। 

:: সরস্বতী পূজোর দিন  নতুন  জামা কাপড় পরিয়ে পাথরের শ্লেটে শ্লেট পেন্সিল দিয়ে হাতেখড়ি হত।

:: ভালো জুতো বলতে বাটার  জুতো বোঝাতো। আর সেই  বিঞ্জাপন এখনও  মনে পরে ---- পূজোয় চাই নতুন জুতো।

:: ঝুলন সাজানোতে বন্ধুদের মধ্যে এক  রেষারেষি চলত। কে কত বিভিন্ন ধরনের পুতুল জোগার করতে পারে।

:: সন্ধায় বড়েদর সাথে গাজনের মেলা দেখতে যাওয়ার  এক বিশেষ আনন্দ  ছিল। খাবার জিনিসের সাথে কোনো একটা খেলনা কেনা হবে ---- এই  আশায়।

:: রথের দিন  পাতাবাহারী গাছের ডাল/পাতা যোগার করে রথ সাজিয়ে নিয়ে বিকেলে রথ রাস্তায় নিয়ে টানা হত।

:: রাতে গোল হয়ে এক লন্ঠের আলোতে সব ভাই বোন মিলে পড়া আর দিনের বেলায় মা-র কাছে রান্নাঘরে গিয়ে পড়ার কথা ভোলা যায় না। 

:: স্কুলে যাওয়া হত হেটে হেটে, সে যত দূরত্বই হোক না কেন। কাঁধে থাকত বই বা কারও জুটতো বই নেওয়ার জন্য একটা টিনের বাক্স।

:: স্কুল থেকে ফেরা হত পাড়ার  সবাই প্রায় একসাথে গল্প করতে করতে। আর  বর্যাকালে ফেরার সময় যদি বৃষ্টি হত তবে  সবাই মিলে ভিজতে কি আনন্দ  হত ----- সে এখন সব স্মৃতি। ভিজে বাড়ীতে ফিরে এসে যথারিতি কারও কপালে জুটতো মায়ের হাতে মার। 

:: স্কুল থেকে ফিরে একটু কিছু খেয়ে নিয়ে ডাকাডাকি পরে যেত মাঠে খেলতে যাওয়ার জন্য। 



:: সপ্তাহের একটা দিন বিকেলের খেলা বাদ যেত রেশন তোলার জন্য। 

:: স্কুলে নতুন ক্লাসে উঠলে সবার  নতুন বই জুটতো না। উপরের ক্লাসের দাদাদের বলে রাখলে সেই বই  কিনে নেওয়া হত। আবার কেউ কেউ বন্ধুদের কাছ থেকে বই নিয়ে পড়াশোনা চালাতো। 

:: ছুটির দিনে গরমকালে সবাই মিলে ঘন্টার পর ঘন্টা  পুকুরে স্নান,  তার আনন্দ আলাদাই ছিল।  আর শীতকালে তেল মেখে এসে পুকুর পাড়ে বসে অনেকক্ষণ ধরে গল্প করা হত___ কে আগে জলে নামবে তার অপেক্ষায়। 

:: স্নানের সময় চুলে দেবার জন্য সর্ষের তেল জুটতো।  বল সাবান বা ৫০১ সাবান  দিয়ে কাপড় ধোয়া আর  লাইফবয় সাবান গায়ে মাথায় দেওয়া হত। কাছে পুকুর না থাকলে , টিউবওয়েলের তলায় বসে একজন স্নান করত আর আর একজন টিপে দিতো। স্নান করে উঠতে গিয়ে প্রায়সময়ই কলে ঠোক্কর লাগতো। 

:: যেদিন  খাবারে ভাতের সাথে ডিমের ঝোল হত, সেদিন  আনন্দের সীমা থাকত না। যদিও  অর্ধেক করে ডিম সকলের কপালে জুটত।

:: জাম্বুরা দিয়ে বল খেলতে ভালই লগতো। পুরোনো টায়ার আর একটা লাঠি দিয়ে গাড়ি চালাতে কি মজায় না হতো।

:: পেয়ারা বা কুল কিনে খেতে হয়, সে তো বড়ো হয়ে জানলাম। পাড়ার যে বাড়িতে এর গাছ  আছে সেখান থেকে পেরে খাবার  অধিকার  পাড়ার  ছেলেদের ছিল।  

:: চাকতি সাজিয়ে ছোট বল দিয়ে খেলা বা ডাং ঘুটি খেলা বা বিভিন্ন  ভাবে কাচের গুলি দিয়ে খেলা এখানকার  ছোটেদর বললে হাসবে। 

:: কলাপাতা ভাঁজ করে বাঁশী বাজানোর অনন্দই ছিল আলাদা।

:: ফুটবলের  ব্লাডারের লিক সারাতে বা ফুটবলের চামড়া সেলাই করতে অনেকেই ছুটতো মুচির কাছে।

:: একটু বড় হয়ে সিনেমা হলে ৭৫ পয়সার  লাইনে খাচার মধ্যে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে সিনেমা দেখেছি। 

:: বিয়ে বাড়িতে হ্যাজাকের আলো আর গেট সাজানো হত কলা গাছ দিয়ে---- সে তো অনেকেই জানেন।  আর বড়লোকেদের বিয়ে বাড়িতে দু-তিন দিন  আগে থেকে ভিয়েন বসত মিষ্টি বানানোর জন্য।

:: প্রায় প্রত্যেক ব্যাপার  বাড়িতে প্রথম পাতে বেগুন ভাজা আর শেষ পাতে মিষ্টির সাথে দই এক পদ থাকতই। কলার পাতায় মাটিতে বসে খেতে কোনই অসুবিধা হত না।

 :: বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান থাকলে বা যে কোনো পূজা পার্বনে মা, কাকিমা , জ্যাঠিমারা আলতা পরতেন।

:: দুর্গাপুজোর কদিন বিভিন্ন রকমের নাড়ু, মোয়া , মুড়খি দিয়ে জলখাবারের পাট মেটানো হত।

:: সন্ধায় ঠাকুরের কাছে প্রদীপ জ্বালানো , ধূপ-ধূনো দেওয়া আর শঙ্খ বাজানো মায়েদের নিত্যদিনের কাজ বলে ধরা হত।

:: মাকে দেখতাম  জ্যাঠার / ঠাকুরদার  সামনে ঘোমটা দিয়ে থাকত আর  সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কোনো সময়ই কথা বলতেন না।

:: ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এখন আর রান্নাবাটি বা পুতুল বা এক্কা-দোক্কা খেলে না। 




:: শীতকালে ছোটরা বাড়ির ছাদে কজন মিলে পিকনিক করত। পয়সার অভাবে সেখানে মাংসের বদলে ডিম হত।

:: বাসের সব চেয়ে কম ভাড়া ১০ পয়সা ছিল,  এতো অনেকেই জানেন।  কিন্ত  একটি রূটে এটা ৮ পয়সা ছিল।  সেই  বাসে চরার কথা এখনো অনেকের মনে আছে। 

:: আমরা বোধহয় শেষ প্রজন্ম যারা হাতে লেখাশংসাপত্র বা সার্টিফিকেট পেয়েছি, এর পর উচ্চ মাধ‍্যমিক আর স্নাতক স্তরে মার্কশিটেই সার্টিফাই করা পেয়েছি তাও ছাপান।



:: অল্প জিনিসপত্র  পরিবহনের জন্য  নীচের  গাড়িটা আমরা ব্যবহার করতাম।  এখন এটি দেখতে পাওয়া যায় না।



 :: " আমরাই ভারতের প্রথম সাজগোজের মাল্টিপারপাস ভ্যানিশিং ক্রিম " ------ এক কালের প্রসাধনী পন্য নির্মাতা এক কোম্পানীর এই দাবী আজ ইতিহাসে পরিনত হয়েছে।



:: শ্মশানে মড়া নিয়ে যাওয়া হত কাধে করে। পুরো রাস্তা এভাবে হেটেই যাওয়া হত। কোনো লোকের মড়ার খবর শুনলে সারা পাড়ার লোক সেখানে জড়ো হত।

♤♡◇♤♡◇♤♡◇♤♡◇♤♡◇♤♡◇♤♡◇♤♡◇


অনেকেই তাদের স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে তাদের কার্যকলাপের জন্য  আমরাই শেষ জেনারেশন  বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন।  দেখুনতো আপনারা, এই বক্তব্যের  যৌক্তকতা কতখানি।

তারা প্রায়শ বলে থাকেন____এই পৃথিবীতে যত পরিবর্তন আমাদের এই জেনারেশন দেখতে পেয়েছে তা মনে হয় আগে কোনো জেনারেশনই দেখতে পায়নি অথবা ভবিষ্যতে পাবেও না  ! 

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা গরুর গাড়ি থেকে সুপার সনিক কনকর্ড জেট দেখতে পেয়েছি। পোস্টকার্ড, খাম, ইনল্যান্ড লেটার থেকে শুরু করে আজ হোয়াটস্যাপ চ্যাটিং,ই-মেইল পর্যন্তও করছি।  অসম্ভব মনে হওয়া অনেক জিনিসই সম্ভব হতে দেখেছি। 

আমরা সেই জেনারেশন, যারা টেলিগ্রাম এসেছে শুনলেই বাড়ির সবার মুখ শুকিয়ে যেতে দেখেছি.. 

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা মাটিতে বসে ভাত খেয়েছি এবং প্লেটে ঢেলে চা খেয়েছি। বিয়ে বা অন্য অনুষ্ঠানে কলাপাতার পরিবেশন থেকে ক্যাটারিং দেখেছি।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা ছোটবেলায় বন্ধুদের সাথে সেই পরম্পরাগত খেলা যেমন লুকোচুরি, কুমীরডাঙ্গা, ডাঙ্গুলি, কবাড্ডি, মার্বেল খেলেছি, আকাশের বুকে রং বেরঙের ঘুড়ি উড়িয়েছি

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা হ্যারিকেন আর বাল্বের হলুদ আলোতে পড়াশুনা করেছি এবং চাদরের ভিতরে লুকিয়ে আনন্দমেলা, শুকতারা,  পড়েছি। 

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা ফ্যান, এসি, হিটার, ফ্রীজ ছাড়াই ছোটবেলা কাটিয়েছি।

আমরাই শেষ জেনারেশন যারা দেখেছি ১পয়সা ট্রাম ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে কয়েকটা ট্রাম পুড়িয়ে দিতে।  দেখেছি অফিস কাছাড়ির কাজকর্মে computer ঢুকতে না দিতে রাত জেগে / দিনের বেলায় অফিসের সামনে কি বিক্ষভ হতে।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা সুলেখা কালি আর খাগের কলম থেকে রাইটার্স, হিরো বা উইংসঙ পেন ব্যবহার করেছি এবং নতুন বই খাতার একটি আলাদা গন্ধ আর আনন্দ উপভোগ করেছি।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা  শিক্ষকদের হাতে মার খেয়েছি এবং ঘরে আসার পর নালিশ করাতে দ্বিতীয়বার মা-বাবার হাতে মার খেয়েছি।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা বয়স্ক বৃদ্ধ, বৃদ্ধাদের সম্মান করেছি এবং করেও যাচ্ছি।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন  যারা জোৎস্না রাতে রেডিওতে BBC'র খবর, রেডিও  সিলোনের " বিনাকা গীতমালা" , শনিবার এর বারবেলা  ছাড়াও আকাশবানী কলকাতার শুক্রবারের রাত আটটার নাটক, অনুরোধের আসর, দুপুরে মহিলামহল, রবিবার সকালে পঙ্কজ মল্লিকের সংগীত শিক্ষার আসর, আরো কতো কিছু শুনেছি l 

 আমরাই সেই শেষ জেনারেশন  যারা টেলিভিশন এ " চিত্র-হার ", "রামায়ণ " , "মহাভারত" সহ রাত জেগে খেলা দেখার জন্য ছাদে উঠে এ্যন্টেনা ঘুরিয়ে স্যিগনাল ধরার চেষ্টা করেছি ।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা আত্মীয় স্বজন বাড়িতে আসার জন্য অপেক্ষা করতাম।

আমরা সেই শেষ জেনারেশন যারা স্কুল থেকে ইচ্ছে করে বৃষ্টিতে ভিজে ঘরে ফিরেছি, গরমে  পুকুরে সাঁতার কেটেছি, বর্ষায় মাছ শিকার করেছি.. 

আমরা সেই শেষ জেনারেশন যারা বিকেল বেলা সময়মত ঘরে না ফিরলে বার বার শাস্তি পেয়েছি...

আমরা সেই শেষ জেনারেশন যারা পুজোর সময় শুধু একটা নুতন জামার জন্য অপারগ বাবার হাতের দিকে চেয়ে থেকেছি.

আমরা সেই শেষ প্রজন্ম যারা রাস্তাঘাটে স্কুলের স্যারকে দেখামাত্র রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়ে আত্মগোপন করে থেকেছি.. কেননা সেসব স্যার খুব রাগী ছিলেন আর তাদেরকে ভয়ও পেতাম খুব। তবে অন্য যেকোনো মাষ্টারমশাই কে দেখলে পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করতাম।  তিনিও নিজের ছেলের মত ভালবাসতেন ও আশীর্বাদ করতেন।

আমরাই সেই শেষ জেনারেশন যারা  মা-বাবার কথা শুনতাম এবং এখন বাচ্চাদের কথা শুনে দিনপাত করছি

আমাদের এই প্রজন্ম এই সংসারের আমূল পরিবর্তন দেখে নিয়েছি 😊



Sunday, 11 July 2021

মহাশক্তি মা কামাখ্যা

 




🌺মহাশক্তি🌺আদ্যাশক্তি🌺পরমা প্রকৃতি🌺


কামাখ্যা মায়ের মুখ ১৫ বছরে একবার দর্শন পাওয়া যায়, মায়ের মুখ সবসময়ই ফুল দিয়ে ঢাকা থাকে। মায়ের চোখ দুটি একদম চিন্ময় জ্বলজ্বল করে।

অসমের নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামরূপ কামাখ্যা ৫১ পীঠের অন্যতম এক পবিত্র পীঠস্থান। বিষ্ণুচক্রে এখানে দেবী সতীর যোনি পতিত হয়েছিল। কথিত আছে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাখ্যা অবস্থান করছেন, সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ মুক্তিলাভ করে।

কামাখ্যা মায়ের প্রথম মন্দির নির্মাণ করেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। ভগবান শিবের নয়নাগ্নিতে কামদেব ভস্ম হয়ে বিকৃত চেহারা প্রাপ্ত হলে, এই স্থানে এসে তিনি পূর্ব রূপ ফিরে পাবার জন্য মা কামাখ্যার তপস্যা করেন। সেই থেকে এই পীঠ কামদেবতা পূজিত "কামাখ্যা পীঠ" নামে খ্যাত।

কামাখ্যা মায়ের বর্তমান মন্দির কোচরাজ বিশ্বসিংহ দ্বারা নির্মিত। কালিকাপুরাণে কামাখ্যাপীঠের বর্ণনা আছে। বলা হয় মা সতীর যোনিদেশ এই স্থানে পতিত হলে, মায়ের সেই অঙ্গ ত্রিদেব মিলেও ধারণ করতে পারেন নি। সেই স্থান রসাতলে যাচ্ছিল। তখন দেবতাদের প্রার্থনায় মা ভগবতী প্রকট হয়ে নিজেই নিজের অঙ্গকে ধারণ করেছিলেন।

কামাখ্যা মায়ের ভৈরব উমানন্দ। ব্রহ্মপুত্রের মাঝে একটি পাহাড়ে অবস্থিত ভৈরবের মন্দির। বলা হয় দেবী উমার আনন্দের জন্য ভগবান শিব এখানে লিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হন। তাই এঁনার নাম উমানন্দ।

দেবী কামাখ্যার পঞ্চ মূর্তি ও অষ্টযোগিনী আছে। পঞ্চ মূর্তি হল- কামাখ্যা, কামেশ্বরী, ত্রিপুরা, সারদা, মহোৎসহা। অষ্টযোগিনী রা হলেন- কটীশ্বরী, গুপ্তকাশী, শ্রীকামা, বিন্ধ্যবাসিনী, পাদদুর্গা, দীর্ঘেশ্বরী, ধনস্থা ও প্রজটা।

কামাখ্যা ধামে অম্বুবাচী কে কেন্দ্র করে বিশাল মেলা বসে। এই সময় বহু সাধু সন্তদের আগমন হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে আষাঢ় মাসে রবি মিথুন রাশিস্থ আর্দ্রা (৬) নক্ষত্রের প্রথমপাদে অর্থাৎ এক চতুর্থাংশ  (৩°|২০') স্থিতিকালে বসুমাতা অর্থাৎ পৃথিবী ঋতুমতী হন। এই সময়কে “অম্বুবাচী” বলে।

অম্বুবাচী সময় দেবী কামাখ্যা ঋতুমতী হন। সে জন্য কামাখ্যা মন্দিরের দরজা বন্ধ করে রাখা হয়৷ তখন শুরু হয় অম্বুবাচী প্রবৃত্তি। অম্বুবাচী কে কেন্দ্র করে মন্দির ঘিরে বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়। প্রচুর ভক্তসমাগম হলেও সে সময় দেবী দর্শন নিষিদ্ধ। ঠিক তিন দিন পরে সেটা শেষ হয়, সেটা হল অম্বুবাচী নিবৃত্তি। উত্‍সবের চতুৰ্থ দিন মন্দিরের গর্ভগৃহে দেবীকে স্নান করিয়ে পূজা শেষ করা হয়। এর পর ভক্তদের দেবী দর্শনের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

কামাখ্যা মায়ের অম্বুবাচী চলাকালীন রক্তবস্ত্রের মাহাত্ম্য অনেক। এই বস্ত্র ধারণ করলে তান্ত্রিক কর্ম করলে তা সফল হয়। যোগিনী তন্ত্রে লিখিত আছে --

কামাখ্যাবস্ত্রমাদায় কপ- পূজাং সমাচরেৎ ।

পূর্ণকামং লভেদ্দেবী সত্যং সত্যং ন সংশয় ॥

(কুব্জিকা তন্ত্র/সপ্তম পটল) 

অর্থাৎ- উক্ত রক্তবস্ত্র শরীরে ধারণ করিলে অভীষ্ট ফল লাভ হয়, তদুপরি কামাখ্যার রক্তবস্ত্র শরীরে ধারণ করিয়া অন্যত্র জপ, পূজা করিলেও পূর্ণকাম হইয়া থাকেন।

অম্বুবাচীর মুহূর্তে আপনাদের কাছে দিলাম মা কামাখ্যা ধ্যানমন্ত্র, স্তোত্রম্ ও প্রণাম মন্ত্র। ইহা সত্যি দুর্মূল্য ও দুর্লভ, পাঠ করুন মা এর কৃপায় মঙ্গল হবেই। একসময় এই সব গুপ্ত ছিল আজ মা এর কৃপায় তা তুলে দিলাম আপনাদের কাছে, সবার মঙ্গল হোক মা কামাখ্যা ও উমানন্দ ভৈরব এর রাতুল চরণে এই প্রার্থনা।





🕉️🌷 কামাখ্যা ধ্যানমন্ত্র --

রবিশশিয়ুতকর্ণা কুংকুমাপীতবর্ণা

মণিকনকবিচিত্রা লোলজিহ্বা ত্রিনেত্রা ।

অভয়বরদহস্তা সাক্ষসূত্রপ্রহস্তা

প্রণতসুরনরেশা সিদ্ধকামেশ্বরী সা ॥ ১॥


অরুণকমলসংস্থা রক্তপদ্মাসনস্থা

নবতরুণশরীরা মুক্তকেশী সুহারা ।

শবহৃদি পৃথুতুঙ্গা স্বাঙ্ঘ্রিয়ুগ্মা মনোজ্ঞা

শিশুরবিসমবস্ত্রা সর্বকামেশ্বরী সা ॥ ২॥


বিপুলবিভবদাত্রী স্মেরবক্ত্রা সুকেশী

দলিতকরকদন্তা সামিচন্দ্রাবতংসা ।

মনসিজ-দৃশদিস্থা য়োনিমুদ্রালসন্তী

পবনগগনসক্তা সংশ্রুতস্থানভাগা ।

চিন্তা চৈবং দীপ্যদগ্নিপ্রকাশা

ধর্মার্থাদ্যৈঃ সাধকৈর্বাঞ্ছিতার্থা ॥ ৩॥

🕉️🌺 কামাখ্যা স্তোত্রম্ --

জয় কামেশি চামুণ্ডে জয় ভূতাপহারিণি ।

জয় সর্বগতে দেবি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১॥

বিশ্বমূর্তে শুভে শুদ্ধে বিরূপাক্ষি ত্রিলোচনে ।

ভীমরূপে শিবে বিদ্যে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ২॥

মালাজয়ে জয়ে জম্ভে ভূতাক্ষি ক্ষুভিতেঽক্ষয়ে ।

মহামায়ে মহেশানি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৩॥

ভীমাক্ষি ভীষণে দেবি সর্বভূতভয়ঙ্করি ।

করালি বিকরালি চ কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৪॥

কালি করালবিক্রান্তে কামেশ্বরি হরপ্রিয়ে ।

সর্বশাস্ত্রসারভূতে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৫॥

কামরূপপ্রদীপে চ নীলকূটনিবাসিনি ।

নিশুম্ভ-শুম্ভমথনি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৬॥

কামাখ্যে কামরূপস্থে কামেশ্বরি হরিপ্রিয়ে ।

কামনাং দেহি মে নিত্যং কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৭॥

বপানাঢ্যমহাবকত্রে তথা ত্রিভুবনেশ্বরি ।

মহিষাসুরবধে দেবি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৮॥

ছাগতুষ্টে মহাভীমে কামাখ্যে সুরবন্দিতে ।

জয় কামপ্রদে তুষ্টে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ৯॥

ভ্রষ্টরাজ্যো য়দা রাজা নবম্যাং নিয়তঃ শুচিঃ ।

অষ্টম্যাঞ্চ চতুর্দশ্যামুপবাসী নরোত্তমঃ ॥ ১০॥

সংবত্সরেণ লভতে রাজ্যং নিষ্কণ্টকং পুনঃ ।

য় ইদংশৃণুয়াদ্ ভক্ত্যা তব দেবি সমুদ্ভবম্ ॥ ১১॥

সর্বপাপবিনির্মুক্তঃ পরং নির্বাণমৃচ্ছতি ।

শ্রীকামরূপেশ্বরি ভাস্করপ্রভে প্রকাশিতাম্ভোজনিভায়তাননে ।

সুরারি-রক্ষঃস্তুতিপাতনোত্সুকে ত্রয়ীময়ে দেবনুতে নমামি ॥ ১২॥

সিতাসিতে রক্তপিশাঙ্গবিগ্রহে রূপাণি য়স্যাঃ প্রতিভান্তি তানি ।

বিকাররূপা চ বিকল্পিতানি শুভাশুভানামপি তাং নমামি ॥ ১৩॥

কামরূপসমুদ্ভূতে কামপীঠাবতংসকে ।

বিশ্বাধারে মহামায়ে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৪॥

অব্যক্তবিগ্রহে শান্তে সন্ততে কামরূপিণি ।

কালগম্যে পরে শান্তে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৫॥

য়া সুষুম্নান্তরালস্থা চিন্ত্যতে জ্যোতিরূপিণি ।

প্রণতোঽস্মি পরাং ধীরাং কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৬॥

দংষ্ট্রাকরালবদনে মুণ্ডমালোপশোভিতে ।

সর্বতঃ সর্বগে দেবি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৭॥

চামুণ্ডে চ মহাকালি কালি কপোলহারিণি ।

পাশহস্তে দণ্ডহস্তে কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৮॥

চামুণ্ডে কুলমালাস্যে তীক্ষ্ণদংষ্ট্রামহাবলে ।

শবয়ানাস্থিতে দেবি কামেশ্বরি নমোঽস্তু তে ॥ ১৯॥

🕉️🌸 কামাখ্যা প্রণাম মন্ত্র --

ত্বং আদ্যাদেবী কামাখ্যারুপেন জগত্মাতৃকা 

তত্ চরনারবিন্দ সর্বভূতানাং স্বর্মপয়ামি ॥১॥


কামাখ্যে বরদে দেবী নীলপর্ব্বত বাসিনী 

ত্বং দেবী জগতাং মাতর্যোনিমুদ্রে নমোহস্তুতে ॥২॥


🙏🏻 জয় মা 🌺 জয় মা 🌺 জয় মা 🙏🏻



আম্বুবাচি কী ? এর অর্থ কী ?

 

ভগবতী র ষোড়শ যাত্রা র মধ্যে অন্যতম হলো আম্বুবাচি যাত্রা । অম্বুবাচী কথাটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ " অম্ব " ও " বাচি " থেকে। " অম্ব " শব্দের অর্থ হলো জল এবং " বাচি " শব্দের অর্থ হলো বৃদ্ধি । গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে ধরিত্রী যখন শুকিয়ে যায়, আষাঢ়ের বৃষ্টি নব জল ধারার আশীর্বাদ নিয়ে পৃথিবী মাতা কে সিক্ত করে.. ধরিত্রী মাতার মাটি বীজ ধরনের উপযুক্ত হয় , সেই সময় টিকেই বলা হয় অম্বুবাচী।

অনেকের বিশ্বাস এই সময় আরাধ্য দেবতার পুজো করতে নেই, স্পর্শ করতে নেই, ঢেকে রাখতে হয়। এই বিশ্বাস টি কি ঠিক ?  এই দিনগুলিতে আমাদের কর্তব্য দেবীকে বিশেষভাবে যত্নে  রাখা । এমন ধারণা ঠিক নয় যে দেবী এইসময় অশুচি বা অস্পৃশ্যা হয়ে যান । অনেকে এই সময় মায়ের নিত্যসেবাও বন্ধ করে দেন , যা একেবারেই অনুচিত । এই দিনগুলিতে আমাদের কর্তব্য দেবীকে বিশেষভাবে যত্নে রাখা। উপরন্তু যথাসম্ভব একান্ত পরিবেশে নির্জন বাসের ব্যবস্থা করা উচিত । কোনভাবেই আমাদের কোন আচরণে মায়ের বিরক্তির উদ্রেক যেন না হয় সেদিকে সর্বদাই খেয়াল রাখতে হবে । সংকল্প বিহীন নিত্য পূজাপাঠ ও আচার অনুষ্ঠান যথাসম্ভব অনাড়ম্বর ভাবে পালন করা উচিত । এই সময় বেশী করে জপ-ধ্যান ইত্যাদি করা উচিত , এই কালে জপ করলে বহুগুণ ফল লাভ হয় । ভূমি কর্ষণ বা ভূমিতে কোনরকম আঘাত করা এবং ক্ষৌরকর্ম ইত্যাদি এই তিন দিন নিষিদ্ধ । সকল সাধক ও ভক্তগণেরই এই সময় সংযত জীবনযাপন করা একান্ত কর্তব্য ।

আম্বুবাচির স্থিতিকাল কতক্ষন ?


উত্তরে , রঘুনন্দন ভট্টাচার্য  তাঁর " অষ্টবিংশতি তত্ত্ব " নামক গ্রন্থে তিথিতত্ব ও কৃত্যতত্বে অম্বুবাচি ও তার স্থিতিকাল নিয়ে লিখেছেন : - 

             সূর্য আষাঢ় মাসে যে দিন যে সময়ে মিথুন রাশিতে আদ্রা নক্ষত্রের প্রথম পাদে গমন করে সেই সময়কাল থেকে মাতৃস্বরূপা পৃথিবী এবং আদ্যাশক্তি মহামায়া ঋতুমতী বা রজ্বসলা হয় ইহাই অম্বুবাচির কাল শুরু হয় । 

সূর্যের মিথুন রাশি গমনের কাল থেকে শুরু করে বিংশতিদন্ডাধিক্ তিনদিন বা তিনদিন কুড়িদন্ড কাল সময় অম্বুবাচির স্থিতি ।

আম্বুবাচি কালে কী কী কর্তব্য ?


উত্তর পাওয়া যাবে বামকেশ্বর তন্ত্রের ৫৫ তম পটলে । যথা :- 

      "   আষাঢ়ে প্রথমে দেবী অম্বুবাচী দিনত্রয়ং ।

         সংগোপন গৃহে দেবিং স্থাপয়েদ্বস্ত্র বেষ্টনে ।।

        রাত্রৌ মহানিশা যোগে পঞ্চাচারেণ দেশিকঃ।

         পূজয়িত্বা বলিং দত্বা হোময়িত্বা বিহারয়েৎ।।   "


অর্থাৎ : - 

            আষাঢ়ের প্রথমে অম্বুবাচী দিবসত্রয়ে দেবীকে গুপ্তভাবে বস্ত্রাদি দ্বারা বেষ্টন করিয়া ( বেষ্টন অর্থে চোখমুখ ঢেকে কাপড় চাপা দিয়ে রাখতে বলা হয় নি ) রাখিবে । অম্বুবাচী নিবৃত্তি হইলে সাধক মহানিশাতে পঞ্চতত্ত্ব  দ্বারা দেবীর পূজা করিয়া , বলিদানাদি , হোমাদি সম্পন্ন করিবে ।


তবে সাধারণ মানুষের কর্তব্য কী ? 

এই দিনগুলিতে আমাদের কর্তব্য দেবীকে বিশেষভাবে যত্নে রাখা । এমন ধারণা ঠিক নয় যে দেবী এইসময় অশুচি বা অস্পৃশ্যা হয়ে যান ।       অনেকে এই সময় মায়ের নিত্যসেবাও বন্ধ করে দেন , যা একেবারেই অনুচিত । এই দিনগুলিতে আমাদের কর্তব্য দেবীকে বিশেষভাবে যত্নে রাখা।  উপরন্তু যথাসম্ভব একান্ত পরিবেশে নির্জন বাসের ব্যবস্থা করা উচিত । কোনভাবেই আমাদের কোন আচরণে মায়ের বিরক্তির উদ্রেক যেন না হয় সেদিকে সর্বদাই খেয়াল রাখতে হবে । সংকল্প বিহীন নিত্য পূজাপাঠ ও আচার অনুষ্ঠান যথাসম্ভব অনাড়ম্বর ভাবে পালন করা উচিত । কিন্তু এই সময় বেশী করে জপ-ধ্যান ইত্যাদি করা উচিত , এই কালে জপ করলে বহুগুণ ফল লাভ হয় । ভূমি কর্ষণ বা ভূমিতে কোনরকম আঘাত করা এবং ক্ষৌরকর্ম ইত্যাদি এই তিন দিন নিষিদ্ধ । সকল সাধক ও ভক্তগণেরই এই সময় সংযত জীবনযাপন করা একান্ত কর্তব্য ।


        🌺 ।। কালী কালী দূর্গা দূর্গা ।। 🌺




Beginning of the yearly menstruation cycle of Mother Godesses ( Known as Ambuvachi ) . 

This form of mother is known as Mula Shakti , every individual will emerge from her and will disappear into her in the end of the time .  

(সংগৃহীত)

Saturday, 22 May 2021

অক্ষয় তৃতীয়ার পূন্য লগ্ন




অক্ষয় তৃতীয়া হলো চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। বৈদিক পরম্পরায় এটি মানা হয় যে , এই বিশেষ দিনে যে যা শুভকাজ করবেন, তার ফল পাবেন তিনি অনন্তকাল। সেইদিন প্রতিটি মানুষকে খেয়াল রাখতে হবে যে, যাতে কোনোরকম ভূল, ত্রুটি বা কলুষিত কর্ম যেন না করা হয়। কারণ ঐ কর্মটি বা কর্মের ফল অক্ষয় হয়ে ফলতে থাকে। অর্থাৎ সেই ত্রুটিপূর্ণ কর্ম সে আরও কয়েকবার করতে বাধ্য হয়। বলে জীবন নিরানন্দ হয়ে পরে।

 



আসলে হিন্দুশাস্ত্রের বহু উল্লেখযোগ্য ঘটনাই হলো এই অক্ষয় তৃতীয়ায় শুভারম্ভ। এই  ঘটনাগুলির উল্লেখ এ ভাবে করা যায় ::^^^^^^^::

-=- ব্যাসদেব যখন মহাভারত লেখবার জন্য  গণেশ কে আবাহন জানালেন,  গণেশ ব্যাসদেবের কথা শুনতে শুনতে এই বিশেষ তিথিতেই রচনা শুরু করেছিলেন।  মহাভারত এই দিনেই রচিত হয়েছিল। 

-=- কুবের বহুবৎসর ভগবান শিবের আরাধনা করেছিলেন।  কঠোর তপস্যায় তুষ্ট হয় মহাদেব কুবেরকে অতুল সম্পদ দান করেন।  এই সেই  বিশেষ তিথি , কুবের এই মহাসম্পদ লাভ করেছিলেন। 

-=- বিষ্ণু অবতার পরশুরামের জন্ম তিথি হলো এই  অক্ষয় তৃতীয়ায়।

-=- সত্যযুগের সমাপ্তি হয়েছিল এই বিশেষ তিথি তথা ক্ষণে।

-=- ভগীরথ এই তিথিতেই মা গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতরণ করান।  

-=- কৃষ্ণের চন্দন যাত্রাও শুরু হয় এই দিনে।

-=- দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের তিথিও এই বিশেষ ক্ষণটি।

-=- কুবেরের লক্ষ্মীলাভকে স্মরণে রেখে বহু মানুষ এই দিন লক্ষ্মীপূজো করেন। কুবেরের মতো যেন ধন সম্পত্তির অধিকারি হন। অনেকে আবার দান ধ্যানও করেন, যাতে পুণ্যির ঝুলি বেশ ডরে ওঠে। 

-=- এই দিনে হালখাতা করার প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো, সেই দিনের অর্থাগমের মতো যেন সারা বছর অর্থাগম হতে থাকে, আবার ক্রেতাও কিছু কিনে গোটা বছরের প্রাপ্তিযোগর উপর শিলমোহর দেবার চেষ্টা করেন। 

-=- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই বিশেষ তিথিতেই তাঁর বন্ধু তথা সুহৃদ  সুদমার দারিদ্র দূর করেন। 

-=- দেবপ্রতিষ্ঠা, বিবাহ,  মুন্ডন সংস্কার,  সম্পত্তি ক্রয়, গৃহনির্মাণ, পিতৃপুরুষের পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম ও তর্পণ প্রভৃতি নানা শুভকার্যে অক্ষয় তৃতীয়ার বিকল্প নাই। 

-=- কেদারনাথ,  বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী------- এই চারধামের যাত্রারও শুরু হয় এই দিনেই। 

-=- জগন্নাথ মহাপ্রভুর চন্দনযাত্রা ও রথ নির্মাণের শুরুও হয় এই বিশেষ তিথিতেই 



এক অহৃকারী ব্রাহ্মণ ক্ষুৎপিপাসায় কাতর এক ব্যক্তি জল চাইলে তৎক্ষণাৎ তার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন।  দয়াবতী স্ত্রী এটি সহ্য করতে না পেরে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ঐ ব্যক্তিকে অন্ন ও জলদান করেন।  মৃত্যুর পর ব্রাহ্মণের বিদেহী আত্মার ঠাই হলো যমলোকে। সেখানে অন্ন-জল বিনা নিদারুন কষ্টে দিন কাটে আত্মার। অবশেষে পত্নীর পুন্যকর্মে যমলোক থেকে মুক্তি পায় আত্মা। ব্রাহ্মণ পুনর্জন্মলাভ করে অক্ষয় তৃতীয়ার ব্রত ভক্তিভরে পালন করে যশস্বী হলেন।  বিগত জন্মের পাপক্ষালন হলো তার নবজন্মের অন্ন ও জলদানের মতো পুণ্যকর্মে।



শুধু হিন্দুদের কাছে নয়, অক্ষয় তৃতীয়ার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে অন্য এক ধর্মেও

রাজা শ্রেয়াংশ ঋষভদেবকে ইক্ষুরস দান করছেন। 


অক্ষয় তৃতীয়াকে মূলত হিন্দু বা সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীদের কাছে পালনীয় এক পবিত্র দিন হিসেবে দেখা হলেও অন্য এক ধর্মে এই দিনটির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। সেটি জৈন ধর্ম। জৈন বিশ্বাস অনুসারে বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথির গুরুত্ব অপরিসীম।

জৈন মতে, ২৪ জন তীর্থঙ্কর মানুষকে সত্যের পথ দেখিয়েছেন। তাঁদের দেখানো পথেই মানুষ জন্ম ও মৃত্যুর অতীত ‘তীর্থে’ পৌঁছতে সক্ষম। এই ২৪ তীর্থঙ্করের প্রথম হলেন ঋষভদেব এবং শেষ ব্যক্তি মহাবীর। জৈন শাস্ত্র থেকে জানা যায়, ঋষভদেব ছিলেন ইক্ষ্বাকু বংশের প্রতিষ্ঠাতা নৃপতি। তাঁর রাজত্বে কোনও দুঃখ ছিল না। পৃথিবী সেই সময়ে ছিল অগণিত কল্পবৃক্ষে পূর্ণ। এই বৃক্ষের কাছে যা চাওয়া যায়, তা-ই লাভ করা যায়। কিন্তু কালের সঙ্গে সঙ্গে ওই সব কল্পতরুর গুণাবলি হ্রাস পেতে থাকে। মানুষও শারীরিক এবং আধ্যাত্মিক সঙ্কটে পড়তে শুরু করে। সেই অবস্থায় তাঁর প্রজাদের ক্লেশ নিবারণের জন্য ঋষভদেব ছ’টি বৃত্তি অবলম্বনের নির্দেশ দেন। এগুলি অবলম্বন করলে মানুষ জাগতিক ক্লেশ থেকে দূরে থাকবে বলে তিনি বর্ণনা করেন। এগুলি হল— অসি (রণজীবী, যাঁরা দুর্বলকে রক্ষা করবেন), মসী (কলমজীবী, অর্থাৎ কবি, দার্শনিক, চিন্তকরা), কৃষি (যাঁরা খাদ্য উৎপাদন করবেন), বিদ্যা (অন্যকে যাঁরা শিক্ষিত করে তুলবেন), বাণিজ্য এবং শিল্প।


অক্ষয় তৃতীয়া, সূর্যদেবের দান আর দ্রৌপদীর হাঁড়ি: এক অনিঃশেষ ভারতকথা

দ্রৌপদীকে কৃষ্ণের অক্ষয় পাত্রের মহিমা বর্ণন। বামাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় অঙ্কিত চোরবাগান আর্ট গ্যালারির ছবি। সূত্র: উইকিপিডিয়া

দ্রৌপদীকে কৃষ্ণের অক্ষয় পাত্রের মহিমা বর্ণন। বামাপদ বন্দ্যোপাধ্যায় অঙ্কিত চোরবাগান আর্ট গ্যালারির ছবি।

মহাভারতে বর্ণিত কাহিনি অনুসারে পাশাখেলায় পরাজিত হয়ে পাণ্ডবরা বনগমন করলে অগণিত ব্রাহ্মণ ও মুনি-ঋষি তাঁদের সঙ্গ নেন। এতে যুধিষ্ঠির পড়েন মহা বিপাকে। তাঁরা সব কিছু ত্যাগ করে বনবাসী হয়েছেন। কিন্তু রাজধর্ম অনুসারে ব্রাহ্মণ ও অতিথির সেবা একান্ত কর্তব্য। কী করে তিনি তাঁদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সাক্ষাৎ করতে আসা অতিথিদের সেবা করবেন, এ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ে পুরোহিত ধৌম্যের শরণাপন্ন হন যুধিষ্ঠির। ধৌম্য তাঁকে সূর্যের আরাধনা করতে বলেন এবং আরাধনার পদ্ধতিও শিখিয়ে দেন।

ধৌম্যের কথা মতো যুধিষ্ঠির সূর্যদেবের পুজা করলেন। সূর্য তুষ্ট হয়ে তাঁকে এক তামার পাত্র দান করলেন এবং বললেন, “বনবাসের দ্বাদশ বৎসর এই তাম্রস্থালীই তোমাদের অন্ন দেবে। সকলের আহার শেষ হলে যতক্ষণ না পর্যন্ত দ্রৌপদী আহার করছেন, ততক্ষণ এই পাত্রের আহার্য ফুরবে না।” সূর্যের কাছ থেকে সেই পাত্র লাভ করে যুধিষ্ঠির নিশ্চিন্ত মনে বনবাসী হয়ে সাধুসঙ্গ ও অতিথি সেবা করতে লাগলেন। সূর্যের দেওয়া পাত্রের কথা কৌরবদেরও কানে পৌঁছল। তাঁরা পাণ্ডবদের পর্যুদস্ত করার নানা উপায় খুঁজছিলেন। এমতাবস্থায় মহাতেজা, মহাক্রোধী তপস্বী দুর্বাসা দুর্যোধনের আতিথ্য স্বীকার করলেন। সঙ্গে ১০ হাজার শিষ্য। দুর্বাসা কখনও কৌরবদের বলতেন যে, তিনি অত্যন্ত ক্ষুধার্ত। স্নান সেরে আসছেন। কৌরবরা যেন তাঁদের আহার প্রস্তুত রাখেন। কিন্তু অনেক সময়েই স্নান করতে গিয়ে প্রচুর দেরি করতেন। ফিরে এসে বলতেন, খিদে নেই। কখনও মধ্যরাত্রে উঠে অন্নপাক করতে বলতেন। ব্যপারটা বুঝে দুর্যোধন ঠিক করলেন, দুর্বাসাকে সশিষ্য বনবাসী পাণ্ডবদের কাছে পাঠালে তাঁরা জব্দ হবেন। কিন্তু সূর্যপ্রদত্ত তাম্রস্থালির গুণে অনন্ত অতিথি সেবা পাণ্ডবদের কাছে কোনও সমস্যার বিষয়ই নয়। তখন শকুনির পরামর্শে তিনি দুর্বাসাকে বললেন, পাঞ্চালীর ভোজন হয়ে যাওয়ার পর অপরাহ্নে তিনি যেন পাণ্ডবদের আতিথ্য গ্রহণ করে আহার্য চান। দুর্বাসা তাতে রাজি হয়ে বনবাসী পাণ্ডবদের কাছে শিষ্যদের নিয়ে উপস্থিত হন। পাণ্ডব ও দ্রৌপদী— সকলেরই তখন মধ্যাহ্নভোজন হয়ে গিয়েছে। সূর্যপ্রদত্ত তাম্রপাত্র শূন্য। দুর্বাসা বললেন, তিনি স্নান সেরে আসছেন। ফিরে ন আহার্য পান।

পাঞ্চালী পড়লেন মহা বিপদে। উগ্রতেজা মুনিকে তুষ্ট করতে না পারলে পাণ্ডবরা ভস্ম হয়ে যেতে পারেন। উপায়ান্তর না দেখে তিনি তাঁর প্রিয় সখা শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করলেন। কৃষ্ণ তৎক্ষণাৎ সেখানে উপস্থিত হয়ে বললেন, তিনি নিজেই দারুণ ক্ষুধার্ত। কৃষ্ণা যেন তখনই তাঁর আহারের ব্যবস্থা করেন। পাঞ্চালী জানালেন, সব আহার্য নিঃশেষিত। তাম্রপাত্র শূন্য। কৃষ্ণ বললেন পাত্র খুঁটিয়ে দেখতে। কিছু না কিছু তাতে লেগে থাকবেই। দ্রৌপদী পাত্রটি নিয়ে এলে কৃষ্ণ দেখলেন, তার কানায় সামান্য শাকান্ন লেগে রয়েছে। তিনি সেটুকুই খেয়ে বললেন, “বিশ্বাত্মা যজ্ঞভোজী দেব তৃপ্তিলাভ করুন। তুষ্ট হন।” তার পর সহদেবকে বললেন, দুর্বাসাদের ভোজনের জন্য ডেকে আনতে। দুর্বাসাদের আহ্নিক তখনও শেষ হয়নি। কিন্তু তাঁরা টের পেলেন, উদর পরিপূর্ণ। তাঁদের ক্ষুধা নিবৃত্ত হয়েছে। শিষ্যরা দুর্বাসাকে জানালেন, আর আহার করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। দুর্বাসা প্রমাদ গণলেন। তিনি ভাবলেন এখন যদি পাণ্ডবদের কাছে গিয়ে তিনি আহার্য অস্বীকার করেন, তবে তো মহা অকল্যাণ ঘটতে পারে। পাণ্ডবরা হরিচরণে আশ্রিত। তিনি সশিষ্য পলায়ন করলেন। ওদিকে পান্ডবরাও দুর্বসার সশিষ্য পলায়নের বৃত্তান্ত জানতে পেরে নিশ্চিন্ত বোধ করলেন।

সূর্যপ্রদত্ত তাম্রপাত্রকে যে দিন অক্ষয়পাত্রে পরিণত করেছিলেন কৃষ্ণ, পৌরাণিক কাল থেকে মনে করা হয় সেই দিনটিই ছিল অক্ষয় তৃতীয়া।

মনে রাখতে হবে  হিন্দু ধর্মানুভূতির সঙ্গে এই দিনটির গভীর যোগ রয়েছে। ভুল না করার শপথ নেবার এক বিশেষ ক্ষণ হলো এই  অক্ষয় তৃতীয়া।  সেজন্যই এই তিথি বা লগ্নে শুভক্ষণটি নিজের জীবনে অক্ষয় ও চিরসবুজ রাখবার জন্য অপরের প্রীতি সম্পাদনে নিজের  সর্বস্ব নিয়োজিত করতে সকলে উন্মুখ হয়ে থাকে।