Wednesday, 10 June 2026

শান্তি সন্ধানে "অলোকা"

 






অলোকা......এক ভারতীয় পথকুকুরের নাম। বয়স হয়তো হবে ৪ বছরের কাছাকাছি। আমরা ভারতীয়রা এদেরকে PARIAH (প্যারিয়া) বা চলতি কথায় দেশী কুকুর বলে থাকি। এর জন্ম কলকাতাতেই , কেননা কলকাতা থেকে একে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্যারিয়া কোন শ্রেনীর কুকুরদের বলা হয় বা এই শব্দের অর্থ কি ? 

ভারতের নিজস্ব কুকুরদের প্রজাতির প্যারিয়া কুকুর বলা হয়। ভারতে এরাই একমাত্র কুকুরদের প্রজাতি যাদের প্রকৃত অর্থে দেশীয় বলতে পারি। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার [৪৫০০] বছর আগে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকে এরা আমাদের অর্থাত ভারতীয়দের সাথে বসবাস করছে। যাদের প্রামাণ্য কঙ্কাল মহেঞ্জোদড়োতে খননকার্যের সময় খুঁজে পাওয়া যায়। অথচ আজকের ভারতীয়  সমাজে ভারতের এই আদি বাসিন্দারাই উপেক্ষিত,  অবহেলিত।  বিদেশী কুকুরদের রমরমার এই বাজারে আমরা ভুলে গিয়েছি সাড়ে চার হাজার বছরের বন্ধুত্ব , আর তাই ভারতীয় প্যারিয়াদের স্হান হয়েছে  রাস্তায়।  গবেষণার ফলে দেখা গিয়েছে যে ভারতীয় পথকুকুরের ইমিউনিটি পাওয়ার বিদেশী প্রজাতির থেকে অনেক বেশি।     সামান্য সমস্যা  কাহিল করতে পারে না ওদের।   সেই  কারণেই চিকিৎসকের কাছেও যেতে হয় না বিশেষ।  কিন্ত বিদেশী প্রজাতির কুকুরদের ক্ষেত্রে পান থেকে চুন খসলেই ছুটতে হয় ডাক্তারের কাছে। যা রীতিমত খরচ সাপেক্ষ।  

পথবাসী তো দূরের কথা, পারিয়া পশুরা ঐতিহ্যগতভাবে সমাজে একটি শান্ত কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করে:

গ্রামরক্ষী: ঐতিহ্যগতভাবে, তারা বসতি পাহারা দিত, বিপদের সতর্কতা অবলম্বন করে এবং ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে।

আদিবাসী সম্প্রদায় সঙ্গী: অনেক আদিবাসী তাদের শিকারের সংগী ও রক্ষক হিসাবে মূল্যায়ন করে।

প্রাচীন শিল্প কর্মে উপস্থিতি: আদি গুহাচিত্র এবং পোড়ামাটির মূর্তিকলের সাথে পারিয়া দলের স্বতন্ত্র কান এবং কীলকাকৃতির মাথার দৃশ্যমান রয়েছে।

আনুগত্যের প্রতীক: প্রায় লোককথায় পথকুকুর বা দেশি কুকুর সন্ত্রাসের বিশ্বস্ত রক্ষক এবং আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসাবে চিত্রিত করা হয়।


এই রকমের একটি পারিয়া কুকুর, যে ভবঘুরে জীবনযাপন করত। সালটি ছিল ২০২২ ।  ভারতে একটি শান্তি তীর্থযাত্রায় অংশ নেওয়া একদল ভিয়েতনামী-আমেরিকান বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথে তার দেখা হয় । ভিক্ষুদের মতে, হাঁটার সময় আলোকা তাদের অনুসরণ করতে শুরু করে এবং যাত্রাপথে গাড়ির ধাক্কা খাওয়া ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও, সে বারবার মিছিলে পুনরায় যোগ দেয়। এরপর ভিক্ষুরা কুকুরটিকে দত্তক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। 



"শান্তির জন্য পদযাত্রা" নামক একটি বৃহত্তর উদ্যোগে যোগদানের পর আলোকার খ্যাতি বৃদ্ধি পায়। এই কর্মসূচিটি শুরু হয়েছিল ২৬শে অক্টোবর, ২০২৫-এ, যখন টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থের হুয়ং দাও বিপাসনা ভাবনা কেন্দ্রের প্রায় ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু ফোর্ট ওয়ার্থ থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত প্রায় ২,৩০০ মাইল পথ হেঁটে যাত্রা শুরু করেন। আলোকা ভিক্ষুদের পাশে হেঁটেছেন, কখনও পায়ে হেঁটে এবং অন্য সময়ে প্রয়োজনে সহায়ক যানবাহনে চড়ে। তার কপালে একটি স্বতন্ত্র হৃদয় আকৃতির চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে প্রচুর অনুসারী অর্জন করেছেন। 



ভিয়েতনামী-আমেরিকান থেরবাদ ভিক্ষুগনের-এর নির্দেশনায় টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে অবস্থিত হুয়ং দাও বিপাসনা ভাবনা কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ভিক্ষুগণ ‘শান্তির জন্য পদযাত্রা’র আয়োজন করেন । এই আন্দোলনটি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ঐতিহ্যবাহী পরিভ্রমণ প্রথা এবং গৌতম বুদ্ধের ৪৫ বছরের শিক্ষাদান যাত্রা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী ধুতঙ্গ [ [ধুতাঙ্গ (Dhutanga) হলো বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৩টি বিশেষ কঠোর তপস্যা বা কৃচ্ছ্রসাধনের অনুশীলনলোভ, দ্বেষ ও মোহরূপী মানসিক ক্লেশ দূর করে চিত্তকে বিশুদ্ধ ও সংযমী করাই এর মূল উদ্দেশ্য। গৌতম বুদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য এই অনুশীলনগুলো ঐচ্ছিক হিসেবে অনুমোদন করেছিলেন। ] ] অনুশীলনের কিছু সীমিত উপাদানও পালন করেছেন, যেমন দিনে একবার আহার করা এবং মাটিতে ঘুমানো, যা আমেরিকান পরিবেশের বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই আন্দোলনের মূল বার্তা হলো, "শান্তির সূচনা হয় অন্তর থেকে।" অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক বিভাজন, সংঘাত ও দুর্ভোগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মননশীলতা , মৈত্রী ( মেত্তা ), আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং অহিংস আচরণের প্রচার করেন।

২০২৫ সালের ২৬শে অক্টোবর টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে২০২৫ সালের ২৬শে অক্টোবর টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে উদ্বোধনী পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২৪ জন থেরাবাদ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একটি দল পায়ে হেঁটে প্রায় ২,৩০০ মাইল (৩,৭০১ কিমি) পথ অতিক্রম করেন। এই যাত্রাপথে তারা টেক্সাস , লুইজিয়ানা , মিসিসিপি , অ্যালাবামা , জর্জিয়া , সাউথ ক্যারোলাইনা , নর্থ ক্যারোলাইনা , ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ড—এই নয়টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি অতিক্রম করেন।

২০২৫ সালের ২৬শে অক্টোবর টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৩ মাইল (৩২ থেকে ৩৭ কিমি) গতি বজায় রেখেছিলেন। ১১০ দিনের এই যাত্রা ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ শেষ হয়, যখন সন্ন্যাসীরা মেরিল্যান্ডের অ্যানাপোলিস থেকে বাসে করে ফোর্ট ওয়ার্থের হুয়ং দাও বিপাসনা ভবন কেন্দ্রে ফিরে আসেন, যেখানে এই পদযাত্রাটি মূলত শুরু হয়েছিল।  ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ তাদের প্রত্যাবর্তনের পর একটি প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এই পদযাত্রার এক কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো আলোকা, একটি উদ্ধারকৃত কুকুর যার পালি ভাষায় নামের অর্থ ‘আলো’ । আলোকা ছিল একটি পথকুকুর, যার দেখা মেলে ২০২২ সালে ভারতে এক তীর্থযাত্রার সময় সন্ন্যাসীদের । সেই সময়ে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়া সত্ত্বেও, সে সন্ন্যাসীদের অনুসরণ করে এবং পরবর্তীতে তাকে দত্তক নেওয়া হয় । সে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে দলটির সঙ্গী হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্বের জন্য তাকে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সে পশু অধিকারের মাসকট এবং সার্বজনীন সহানুভূতির প্রতীক হয়ে ওঠে।



২০২৫ সালের ২৬শে অক্টোবর টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে উদ্বোধনী পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২৪ জন থেরাবাদ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একটি দল পায়ে হেঁটে প্রায় ২,৩০০ মাইল (৩,৭০১ কিমি) পথ অতিক্রম করেন। এই যাত্রাপথে তারা টেক্সাস , লুইজিয়ানা , মিসিসিপি , অ্যালাবামা , জর্জিয়া , সাউথ    ক্যারোলাইনা , নর্থ ক্যারোলাইনা , ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ড—এই নয়টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি অতিক্রম করেন।

অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৩ মাইল (৩২ থেকে ৩৭ কিমি) গতি বজায় রেখেছিলেন। ১১০ দিনের এই যাত্রা ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ শেষ হয়, যখন সন্ন্যাসীরা মেরিল্যান্ডের অ্যানাপোলিস থেকে বাসে করে ফোর্ট ওয়ার্থের হুয়ং দাও বিপাসনা ভবন কেন্দ্রে ফিরে আসেন, যেখানে এই পদযাত্রাটি মূলত শুরু হয়েছিল।  ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ তাদের প্রত্যাবর্তনের পর একটি প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

যাত্রাপথে একজন অংশগ্রহণকারী সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমর্থন ও জনদৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা একদিকে যেমন দীর্ঘ এই যাত্রার শারীরিক কষ্টকে তুলে ধরে, তেমনই অন্যদিকে ‘শান্তির পথে পদযাত্রা’ দ্বারা প্রচারিত সহানুভূতি ও সহনশীলতার বৃহত্তর বার্তাকেও প্রকাশ করে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজ়রায়েলের গাজ়া দখলের চেষ্টা, বাংলাদেশে অশান্তি কিংবা ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্টকে আমেরিকার অপহরণ— বিশ্ব জুড়ে যখন নানান অস্থিরতার বাতাবরণ, সে সময়ই ভিক্ষুদের সঙ্গে আলোকের শান্তিযাত্রা!

ওয়াক ফর পিস কেবল একটি ধর্মীয় যাত্রা নয়, এটি মানুষের সঙ্গে প্রকৃতি ও প্রাণীর সম্পর্কেরও এক প্রতীক। আলোকা প্রমাণ করেছে, শান্তির ভাষা বোঝার জন্য শব্দের প্রয়োজন নেই। সহানুভূতি, বিশ্বস্ততা আর ভালোবাসা এই অনুভূতিগুলোই তাকে ভিক্ষুদের সঙ্গে এক নীবির সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে।

এই :ওয়াক ফর পিস :কী ??

ওয়াক ফর পিস বা শান্তি পদযাত্রা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়। এটি একটি দীর্ঘ আন্দোলন। ভিক্ষুদের মতে, শান্তি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি চর্চা। আর সেই চর্চা শুরু হয় নিজের শরীর দিয়ে, নিজের গতির মধ্য দিয়ে। তাই তাঁরা হাঁটেন খালি পায়ে। হাতে কোনো ব্যানার থাকে না, মুখে কোনো দাবি থাকে না। তাঁদের হাঁটার ভঙ্গি, ধৈর্য, নীরবতা—সব মিলিয়েই হয়ে ওঠে বার্তা। মানুষ রাস্তার ধারে থেমে দেখে, ভাবতে শুরু করে। একদল বৌদ্ধ ভিক্ষু নিয়মিত এই ধরনের পদযাত্রা করেন বিশ্বের নানা প্রান্তে।

আলোক কোনো প্রশিক্ষিত পোষা কুকুর নয়। বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবাংলার রাস্তায় রাস্তায় এমন চেহারার অসংখ্য কুকুরকে ঘুরতে দেখা যায়। সে জন্মেছিল কলকাতার রাস্তায়।   আর দশটা দেশি কুকুরদের মতোই তার জীবন শুরু হয়েছিল অনিশ্চয়তায়। কোনো মালিক কিংবা নির্দিষ্ট আশ্রয় ছিল না। কখনো ফুটপাতে, কখনো গলির ধারে, কখনো কোনো দোকানের শাটারের নিচে তার রাত কাটত। খাবার জুটত কখনো মানুষের দয়া থেকে, কখনো উচ্ছিষ্ট থেকে। টিকে থাকাই ছিল প্রতিদিনের একমাত্র কাজ। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পথে হেঁটে চলেছিল কলকাতার ‘পথের কুকুর’ আলোক। এখন সবাই তাকে চেনে ‘দ্য পিস ডগ’ নামে।আর এখন " ওয়াক ফর পিস  বা ‘শান্তি পদযাত্রা’র অংশ গ্রহন করে হয়ে উঠেছে ১৯ বৌদ্ধ ভিক্ষুর সর্বক্ষণের সঙ্গী । 




এই যাত্রাপথেই আলোক হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তার নিজের ইনস্টাগ্রাম আছে। ফেসবুকে লাইভ ট্র্যাকার দিয়ে যাত্রার আপডেট দেওয়া হচ্ছিল। ধীরে ধীরে সে হয়ে উঠেছিল এই শান্তিযাত্রার সবচেয়ে চেনা মুখ। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অনেকে থেমে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ সেলফিও নিচ্ছেন। সেই সব ছবি আর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কয়েক মাস আগে কলকাতায় ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুর একটি দল শান্তি পদযাত্রার অংশ হিসেবে এসেছিলেন। তাঁরা তখন ভারতে ১১২ দিনের এক পদযাত্রায় বেরিয়েছেন। অচেনা পোশাক বা চেহারার ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে একসঙ্গে দেখে হয়ত কৌতূহলী হয়ে পড়েছিল আলোক। প্রথমে সেই কৌতূহলের বশেই তাঁদের সঙ্গে হাঁটা শুরু করে।

দিনের পর দিন ভিক্ষুরা হাঁটছেন, আর আলোক তাঁদের পাশেই আছে। তাঁরা যেখানে থামেন, সেখানেই সে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়ে। ভিক্ষুরা ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাঁটা শুরু করলে, আলোকও উঠে দাঁড়ায়। কেউ তাকে বেঁধে রাখেনি, কেউ বাধ্য করেনি। তবু সে যায়নি। ধীরে ধীরে সে আর ‘পথে পাওয়া এক কুকুর’ থাকে না। সে হয়ে ওঠে যাত্রারই অংশ।


শান্তি ও করুণার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতীক হয়ে ওঠা ভারতীয় উদ্ধারকৃত কুকুর অলোকা, বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শান্তি কর্মীদের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সফরকালে  নয়াদিল্লিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশু অধিকার কর্মী মানেকা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে।

গান্ধীর জোরবাগ বাসভবনে আয়োজিত এই সমাবেশে বৌদ্ধ ভিক্ষু, শান্তিযাত্রী এবং পশু কল্যাণ সমর্থকরা একত্রিত হয়েছিলেন, যাঁরা একটি সাধারণ পাড়ার কুকুর থেকে অহিংসা ও সহাবস্থানের বিশ্বব্যাপী দূত হয়ে ওঠার অলোকার যাত্রাপথ তুলে ধরেন।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গান্ধী বলেন, অলোকার গল্পটি ভারতের পথকুকুরদের মধ্যে প্রায়শই দেখা যায় এমন গুণাবলী তুলে ধরে এবং তিনি এইসব সম্প্রদায়ের পশুদের প্রতি আরও বেশি সহানুভূতি দেখানোর আহ্বান জানান।

"বিশ্ব , আলোকার মধ্যে যা দেখে, মানুষ যদি প্রতিটি পাড়ার কুকুরের মধ্যে তার সামান্য অংশও দেখতে পেত, তাহলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ভিন্ন হতো। আলোকা ভারতের পথকুকুরদের সেরা গুণাবলীর মূর্ত প্রতীক...... আনুগত্য, সাহস, সহনশীলতা, শান্তি এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা," তিনি বলেন।

প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মতে, আলোকার জন্ম হয়েছিল ওড়িশ্যায় এবং তাঁদের সাথে হাঁটবার সময়  মাঝে মাঝে অসুস্থতা ও আঘাতসহ নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও, সে দলটির সঙ্গেই ছিল এবং অবশেষে ভিক্ষুরা তাকে দত্তক নেন ও তার নাম রাখেন "আলোকা", যার অর্থ "আলো" বা "আলোক"।

মেনকা গান্ধী সহ ঐ দলের সকলেই আশা প্রকাশ করেন যে, আলোকার ভারত সফর গৃহপালিত পশুদের প্রতি আরও বেশি সহানুভূতি জাগিয়ে তুলবে ।

সহনাভূতি, অহিংসা এবং প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ প্রসারে একটি অঙ্গীকারও নেওয়া হয় সেই  সভাতে। 


:<সংগৃহীত>: