Friday, 3 July 2026

বার্ধক্যের গল্প গান

 


" বার্ধক্য " মানুষের জীবনে এক অসহায় সময়কাল। কার জন্য জীবনের শেষ অধ্যায়ে কি অপেক্ষা করছে সেটা বলা মুশকিল।  এই অধ্যায়ে এসে মানুষ  অবশ্যম্ভাবী অনাচ্ছিকৃত তজান্তে  এক লটারি খেলায় অংশ গ্রহন করে। তাই  এককথায় বলা যেতে পারে শেষজীবন টুকু প্রায় সকলেরই ভাগ্য নিয়ন্ত্রিত।  যদি কোনো প্রবীণের টাকা পয়সা, ঘর বাড়ী , ছেলে মেয়ে নিয়ে ভরা সংসার থাকলেও  তিনি যে সুখে দিন কাটাবেন, আনন্দে বাকী জীবনটা কাটিয়ে দেবো  বলে ভাবছেন, হয়তো তিনি একটু ভুলই ভাবছেন। কেননা এই  বয়সকাল অর্থাত বার্ধক্য তাকে বাধ্যতামূলক পরাধীনতার দিকে ঠেলে নিয়ে যাবে। আর যার টাকাপয়সা নেই বা অন্য ধনসম্পত্তি নেই  বা ছেলে মেয়ে নেই  তাদের তো বেচে থাকার কথা চিন্তা করাই অর্থহীন। 

বার্ধক্যের জীবন যেন এক কৃতজ্ঞতাহীন কঙ্কাল। বিধস্ত, পরাজিত এক অসহায় মানুষ। জীবনের এই শেষ লগ্নে এসে কেউ যদি একান্তেই ভাবে ...... এতদিন পরম মায়ায় যে জীবন কাটিয়ে এলাম তার শেষ পর্বে এসে দেখছি সবাই যেন ঠেকিয়ে দিচ্ছে এই কঙ্কালকে, কোনো  রকম কৃতজ্ঞতা বোধ নেই,  জীবনের সমস্ত কার্যকলাপ সম্পূর্ণ কৃতজ্ঞতাহীন হয়ে পরেছে...... তবে তার চিন্তাধারা মনেহয় সঠিক পথেই এগুচ্ছে।

বর্তমান সমাজে যে সব ঘটনা ঘটছে সে সব শুনলে বা দেখলে সত্যিই মনে হবে বয়স হওয়াটাই যেন অপমানের। বৃদ্ধ মানুষের প্রতি সম্ভ্রম দেখানো বা তাদের প্রতি যত্নশীল হওয়া যেন খানিকটা ঋণ শোধের মত ব্যাপার।  কেননা সমাজের ছোটদের বয়স্ক মানুষের পাশে দু দন্ড বসবাস সময় কোথায় ? যে দাদু-দিদারা, ঠাকুরদা-ঠাকুমারা নাতিনাতনিদের গোটা রাত কোলে নিয়ে ঘুম পাড়িয়াছে, দুপুরবেলা পাশে শুইয়ে গল্প বলেছে,  বিকেলবেলা হাত ধরে পার্কে নিয়ে বেড়িয়েছে, বাইনা শুরু করলে ভাত মেখে খাইয়ে তা ভোলানোর চেষ্টা করছে, বাবা-মার বকুনির হাত থেকে বাচিয়েছে , সেইসব নাতিনাতনিদের একটুও কি ফুরসত আছে যে দাদু-দিদিমা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমার  দিকে একবার তাকাবে। বেচারি নাতিনাতিনিদের দোষ কোথায়? বাবা মায়ের কথায় লেখাপড়ার মাঠে দৌড়াতে শেখা..... আশে পাশে পিছনে না তাকিয়ে শুধু সামনে দৌড়ানো আর দৌড়ানো । তৈরি করতে হবে কেরিয়ার  আর কেরিয়ার।  তাহলে ব্যস্ততা কি কম ?? বিয়েতে নাতবৌ এর মুখ দেখে সারে চার ভরির হার লকারে রাখতে নাতবৌকে তো সময় একটু বার করে নিতেই হবে । কিন্ত মিছামিছি অসুস্থ ঠাকুরমা পাশে দু দন্ড বসা কি সম্ভব ? না কি যুক্তিযুক্ত? আর সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারার  সময় তো আসতেই হবে কেননা ঠাকুরদা ঠাকুমার সঙ্গে জেনারেশন গ্যাপ হতে পারে কিন্ত জমি বাড়ির সঙ্গে তো কখনোই হয় না।



বার্ধক্যের এই একাকীত্ব একটি গভীর মানসিক ও সামাজিক সমস্যা। একাকীত্ব  নানা কারনে হতে পারে । প্রিয়জনের মৃত্যু, শারীরিক অক্ষমতা, সন্তানদের / প্রিয়জনের দূরে থাকা বা সামাজিক বৃত্ত ছোট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রবীণরা প্রায়শই নিঃসঙ্গতায় ভোগেন। এটি কেবল মনের কষ্ট নয়, বরং শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি, স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া) এবং বিষণ্ণতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বয়সের এই  সমস্যা ধনী দরিদ্র বলে কোনো ভেদাভেদ নেই।  যাদের টাকা পয়সা আছে তারা অধুনা ব্যায়বহুল এই চিকিৎসা কিছুদিন চালিয়ে নিতে পারেন। ছেলেমেয়েরা বড়লোক হলে আধুনিক ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার সাহায্য নিয়ে মা বাবাকে কিছুটা স্বস্তির আলো দেখিয়ে থাকে। তবে টাকা থাকলেও বা না থাকলেও বার্ধক্যের যন্ত্রনা সবার। কারও পেটের খিদের যন্ত্রনা, কারও কোমরের ব্যাপার , কারও হাটুর যন্ত্রনা , সর্বোপরি সকলের একাকীত্বের যন্ত্রনা তো রয়েছে। আলিপুর / নিউটাউন বা রাজারহাটের এগারো তলায় যে বৃদ্ধ দম্পতি রয়েছেন তাদের হয়তো বড় ডাক্তারের চিকিৎসায় হাটুর / কোমরের ব্যাথা কম হতে পারে কিন্ত তাদের একাকীত্বের যন্ত্রনা কে সারাতে পারবে ?? কোম্পানির ভাড়া করা লোক দিয়ে দাবা / তাস খেলা যেতে পারে বা কিছুটা সময় গল্প করা যেতে পারে, তবে সেটা কিছুদিন।  কিছুদিন পর থেকে সেগুলি রোবটের মত মনে হতে আরম্ভ করে। সেই শেষ রাতে ভেঙে ঘুম যাওয়ার পর আগামি দিনকে মনে হতে থাকে অনেক বড় আর একঘেয়ে। 

দেখা গিয়েছে এই  একাকীত্ব  মানসিক অবসাদ ও শারীরিক অসুস্থতা বাড়িয়ে তোলে। প্রাত্যহিক রুটিন তৈরি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সময় দেওয়া এই একাকীত্ব কাটাতে অত্যন্ত কার্যকর। 
বার্ধক্যের একাকীত্বের মূল কারণ   
  • সামাজিক বৃত্তের সংকোচন: বন্ধু বা জীবনসঙ্গীর মৃত্যু এবং সন্তানরা কর্মব্যস্ততার কারণে দূরে চলে যাওয়া।
  • শারীরিক সীমাবদ্ধতা: চলাফেরায় অক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি হ্রাস, এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ।
  • প্রযুক্তির দূরত্ব: নতুন প্রযুক্তির সাথে মানিয়ে নিতে না পারা এবং যোগাযোগের অসুবিধা ।
স্বাস্থ্যঝুঁকি  ***
গবেষণায় দেখা গেছে, একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কেবল মানসিক কষ্টের কারণ নয়, এটি হৃদরোগ, স্মৃতিভ্রংশ (Dementia) এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করার মতো মারাত্মক শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) গবেষনার পর জানিয়েছে   সামাজিক সংযোগকে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য ।
লোকে বলে একাকীত্ব  কিছুটা কাটানো  যেতে পারে .........

  • নিয়মিত যোগাযোগ: আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।
  • নতুন শখ ও কাজ: বাগান করা, বই পড়া বা পছন্দের কোনো কাজে সময় কাটানো।
  • সামাজিক ক্লাবে অংশগ্রহণ: স্থানীয় প্রবীণদের ক্লাব, লাইব্রেরি বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়া।
  • প্রযুক্তির ব্যবহার: ভিডিও কলের মাধ্যমে দূরে থাকা সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সাথে যুক্ত থাকা।
  • পেশাদার সহায়তা: প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রবীণ সেবা সংস্থাগুলির (যেমন: HelpAge India) সাহায্য নেওয়া।


তবে এসবের সাহায্য নিলেই কি একাকীত্বের কুয়াশা কাটে? বর্তমান   প্রযুক্তির  আশীর্বাদে / ব্যবহারে ওয়াট্স্যাপ কলে বিলেতে হোক বা আমেরিকার বা যে কোনো বাইরের দেশে থাকা প্রিয়জনের সাথে কথা বলা যায় বা ছবিতে দেখাও যায়। তাতে অনেকেই বলতে পারেন .... সেটুকুই তো যথেষ্ট এই ব্যস্ততার যুগে। কিন্ত যাদের সাথে অর্থাত ছেলে, মেয়ে, জামাই , বৌমা, নাতি বা নাতনিদের অত সময় কোথায়! কেউ বলে একটু পরেই  মিটিং শুরু হবে , আজ বেশী কথা বলা যাবে না। আবার কেউ " হাই" বলে হাজিরা দিয়ে হাত নারিয়ে নিজের সেদিনের কর্তব্য পালন করে। এদিকে বুড়ো বাবা মা ভেবেছিলো দীর্ঘদিন ভালভাবে মনের কথা না বলার জন্য মনে যে কুয়াশার অন্ধকার জমে ছিল তা হয়তো কেটে গিয়ে আনন্দের আলো জ্বলে উঠবে তা আর বাস্তবে রূপায়িত হল না। মনের অন্ধকার অন্ধকারই থেকে গেল , ওয়াট্স্যাপের লাইন কেটে দিতে হলো।

অনেকের মতামত নিজের সংসারে থাকার চাইতে বৃদ্ধাশ্রমে থাকায় অনেক বেশী শান্তি আনে। এর পিছনে যুক্তি হল একই বয়সের সব মানুষজন পাশাপাশি থাকবে, অন্যের একাকীত্বে নিজের একাকীত্বের দঃখ কিছুটা কমবে। এটাই বাস্তবোচিত। এরকম একটা ধারনা নিয়েই সরকার পরিচালিত বৃদ্ধাশ্রমগুলি প্রথমে খোলা হয়েছিল। কিন্ত যখন চতুর মানবশ্রেনী উপলব্ধি করল যে এই  সভ্য দুনিয়াতে প্রবীণ শ্রেনী মানুষের জায়গা খুব সীমিত  আর    এক প্রবীণ শ্রেণী মানুষের হাতে অঢেল পয়সা আছে , তখন এসব সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যবসা আরম্ভ করল। চালু হ'ল বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমের রমরমা ব্যবসা। প্রবীণদের মধ্যে যারা অনুভব করতে পারলো যে পরিবার পরিবার করে মায়া বাড়ানো বোকামি, এ জীবন একারই , আর তাই যাদের টাকা পয়সার অভাব নেই,  তারা কালক্ষেপ  না করে এইসব বিলাসবহুল বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমে আবাসিক হয়ে যাচ্ছেন।  তারা সহজেই স্বীকার করেন যে আজকালকার দিনে ঠুনোকো  এইসব চিন্তা...... প্রিয়জনের সাথে শেয দিনগুলি কাটানো বা পরিবারের সাথে একসাথে কাটানো বা আদরে আহ্লাদে বাকী জীবনটা কাটাবো...... এগুলি সবই বোকো বোকা চিন্তার সামিল।  তার থেকে পূর্ন আত্মমর্যদা নিয়ে বাকী দিনগুলি কাটিয়ে দেওয়া যায় স্বাধীন ভাবে বৃদ্ধশ্রমে থেকে।

প্রবীণদের একাকীত্ব একটি হৃদয়বিদারক বাস্তবতা, যার সমাধান করা আবশ্যক। এই নীরব মহামারীর মোকাবিলা করতে সহানুভূতি, করুণা এবং সক্রিয় পদক্ষেপ অপরিহার্য। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, আন্তঃপ্রজন্মীয় সম্পর্ককে মূল্য দেওয়া এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে গ্রহণ করার মাধ্যমে আমরা সবাই মিলে এমন একটি সমাজ তৈরি করতে সক্ষম, যেখানে আমাদের প্রবীণ জনগোষ্ঠী নিজেদের সমাদৃত, সংযুক্ত এবং সম্মানিত বোধ করবেন।

আসুন, আমরা আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ওপর বিষণ্ণতাকে ছায়া ফেলতে না দিই। আসুন, আমরা একযোগে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে সকল প্রবীণ নাগরিক সম্মানিত হবেন, তাঁদের কথা শোনা হবে এবং তাঁরা স্নেহময় সাহচর্যের বলয়ে পরিবেষ্টিত থাকবেন


<<**সংগৃহীত**>>

Wednesday, 10 June 2026

শান্তি সন্ধানে "অলোকা"

 






অলোকা......এক ভারতীয় পথকুকুরের নাম। বয়স হয়তো হবে ৪ বছরের কাছাকাছি। আমরা ভারতীয়রা এদেরকে PARIAH (প্যারিয়া) বা চলতি কথায় দেশী কুকুর বলে থাকি। এর জন্ম কলকাতাতেই , কেননা কলকাতা থেকে একে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্যারিয়া কোন শ্রেনীর কুকুরদের বলা হয় বা এই শব্দের অর্থ কি ? 

ভারতের নিজস্ব কুকুরদের প্রজাতির প্যারিয়া কুকুর বলা হয়। ভারতে এরাই একমাত্র কুকুরদের প্রজাতি যাদের প্রকৃত অর্থে দেশীয় বলতে পারি। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার [৪৫০০] বছর আগে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকে এরা আমাদের অর্থাত ভারতীয়দের সাথে বসবাস করছে। যাদের প্রামাণ্য কঙ্কাল মহেঞ্জোদড়োতে খননকার্যের সময় খুঁজে পাওয়া যায়। অথচ আজকের ভারতীয়  সমাজে ভারতের এই আদি বাসিন্দারাই উপেক্ষিত,  অবহেলিত।  বিদেশী কুকুরদের রমরমার এই বাজারে আমরা ভুলে গিয়েছি সাড়ে চার হাজার বছরের বন্ধুত্ব , আর তাই ভারতীয় প্যারিয়াদের স্হান হয়েছে  রাস্তায়।  গবেষণার ফলে দেখা গিয়েছে যে ভারতীয় পথকুকুরের ইমিউনিটি পাওয়ার বিদেশী প্রজাতির থেকে অনেক বেশি।     সামান্য সমস্যা  কাহিল করতে পারে না ওদের।   সেই  কারণেই চিকিৎসকের কাছেও যেতে হয় না বিশেষ।  কিন্ত বিদেশী প্রজাতির কুকুরদের ক্ষেত্রে পান থেকে চুন খসলেই ছুটতে হয় ডাক্তারের কাছে। যা রীতিমত খরচ সাপেক্ষ।  

পথবাসী তো দূরের কথা, পারিয়া পশুরা ঐতিহ্যগতভাবে সমাজে একটি শান্ত কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ স্থান অধিকার করে:

গ্রামরক্ষী: ঐতিহ্যগতভাবে, তারা বসতি পাহারা দিত, বিপদের সতর্কতা অবলম্বন করে এবং ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে।

আদিবাসী সম্প্রদায় সঙ্গী: অনেক আদিবাসী তাদের শিকারের সংগী ও রক্ষক হিসাবে মূল্যায়ন করে।

প্রাচীন শিল্প কর্মে উপস্থিতি: আদি গুহাচিত্র এবং পোড়ামাটির মূর্তিকলের সাথে পারিয়া দলের স্বতন্ত্র কান এবং কীলকাকৃতির মাথার দৃশ্যমান রয়েছে।

আনুগত্যের প্রতীক: প্রায় লোককথায় পথকুকুর বা দেশি কুকুর সন্ত্রাসের বিশ্বস্ত রক্ষক এবং আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসাবে চিত্রিত করা হয়।


এই রকমের একটি পারিয়া কুকুর, যে ভবঘুরে জীবনযাপন করত। সালটি ছিল ২০২২ ।  ভারতে একটি শান্তি তীর্থযাত্রায় অংশ নেওয়া একদল ভিয়েতনামী-আমেরিকান বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথে তার দেখা হয় । ভিক্ষুদের মতে, হাঁটার সময় আলোকা তাদের অনুসরণ করতে শুরু করে এবং যাত্রাপথে গাড়ির ধাক্কা খাওয়া ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও, সে বারবার মিছিলে পুনরায় যোগ দেয়। এরপর ভিক্ষুরা কুকুরটিকে দত্তক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। 



"শান্তির জন্য পদযাত্রা" নামক একটি বৃহত্তর উদ্যোগে যোগদানের পর আলোকার খ্যাতি বৃদ্ধি পায়। এই কর্মসূচিটি শুরু হয়েছিল ২৬শে অক্টোবর, ২০২৫-এ, যখন টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থের হুয়ং দাও বিপাসনা ভাবনা কেন্দ্রের প্রায় ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু ফোর্ট ওয়ার্থ থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত প্রায় ২,৩০০ মাইল পথ হেঁটে যাত্রা শুরু করেন। আলোকা ভিক্ষুদের পাশে হেঁটেছেন, কখনও পায়ে হেঁটে এবং অন্য সময়ে প্রয়োজনে সহায়ক যানবাহনে চড়ে। তার কপালে একটি স্বতন্ত্র হৃদয় আকৃতির চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে প্রচুর অনুসারী অর্জন করেছেন। 



ভিয়েতনামী-আমেরিকান থেরবাদ ভিক্ষুগনের-এর নির্দেশনায় টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে অবস্থিত হুয়ং দাও বিপাসনা ভাবনা কেন্দ্রের সাথে যুক্ত ভিক্ষুগণ ‘শান্তির জন্য পদযাত্রা’র আয়োজন করেন । এই আন্দোলনটি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ঐতিহ্যবাহী পরিভ্রমণ প্রথা এবং গৌতম বুদ্ধের ৪৫ বছরের শিক্ষাদান যাত্রা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী ধুতঙ্গ [ [ধুতাঙ্গ (Dhutanga) হলো বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ১৩টি বিশেষ কঠোর তপস্যা বা কৃচ্ছ্রসাধনের অনুশীলনলোভ, দ্বেষ ও মোহরূপী মানসিক ক্লেশ দূর করে চিত্তকে বিশুদ্ধ ও সংযমী করাই এর মূল উদ্দেশ্য। গৌতম বুদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য এই অনুশীলনগুলো ঐচ্ছিক হিসেবে অনুমোদন করেছিলেন। ] ] অনুশীলনের কিছু সীমিত উপাদানও পালন করেছেন, যেমন দিনে একবার আহার করা এবং মাটিতে ঘুমানো, যা আমেরিকান পরিবেশের বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই আন্দোলনের মূল বার্তা হলো, "শান্তির সূচনা হয় অন্তর থেকে।" অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক বিভাজন, সংঘাত ও দুর্ভোগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মননশীলতা , মৈত্রী ( মেত্তা ), আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং অহিংস আচরণের প্রচার করেন।


২০২৫ সালের ২৬শে অক্টোবর টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে২০২৫ সালের ২৬শে অক্টোবর টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে উদ্বোধনী পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২৪ জন থেরাবাদ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একটি দল পায়ে হেঁটে প্রায় ২,৩০০ মাইল (৩,৭০১ কিমি) পথ অতিক্রম করেন। এই যাত্রাপথে তারা টেক্সাস , লুইজিয়ানা , মিসিসিপি , অ্যালাবামা , জর্জিয়া , সাউথ ক্যারোলাইনা , নর্থ ক্যারোলাইনা , ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ড—এই নয়টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি অতিক্রম করেন।

২০২৫ সালের ২৬শে অক্টোবর টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৩ মাইল (৩২ থেকে ৩৭ কিমি) গতি বজায় রেখেছিলেন। ১১০ দিনের এই যাত্রা ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ শেষ হয়, যখন সন্ন্যাসীরা মেরিল্যান্ডের অ্যানাপোলিস থেকে বাসে করে ফোর্ট ওয়ার্থের হুয়ং দাও বিপাসনা ভবন কেন্দ্রে ফিরে আসেন, যেখানে এই পদযাত্রাটি মূলত শুরু হয়েছিল।  ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬-এ তাদের প্রত্যাবর্তনের পর একটি প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এই পদযাত্রার এক কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো আলোকা, একটি উদ্ধারকৃত কুকুর যার পালি ভাষায় নামের অর্থ ‘আলো’ । আলোকা ছিল একটি পথকুকুর, যার দেখা মেলে ২০২২ সালে ভারতে এক তীর্থযাত্রার সময় সন্ন্যাসীদের । সেই সময়ে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়া সত্ত্বেও, সে সন্ন্যাসীদের অনুসরণ করে এবং পরবর্তীতে তাকে দত্তক নেওয়া হয় । সে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে দলটির সঙ্গী হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্বের জন্য তাকে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সে পশু অধিকারের মাসকট এবং সার্বজনীন সহানুভূতির প্রতীক হয়ে ওঠে।



২০২৫ সালের ২৬শে অক্টোবর টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে উদ্বোধনী পদযাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২৪ জন থেরাবাদ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের একটি দল পায়ে হেঁটে প্রায় ২,৩০০ মাইল (৩,৭০১ কিমি) পথ অতিক্রম করেন। এই যাত্রাপথে তারা টেক্সাস , লুইজিয়ানা , মিসিসিপি , অ্যালাবামা , জর্জিয়া , সাউথ    ক্যারোলাইনা , নর্থ ক্যারোলাইনা , ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ড—এই নয়টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি অতিক্রম করেন।


যাত্রাপথে একজন অংশগ্রহণকারী সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর একটি পা কেটে বাদ দিতে হয়। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমর্থন ও জনদৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা একদিকে যেমন দীর্ঘ এই যাত্রার শারীরিক কষ্টকে তুলে ধরে, তেমনই অন্যদিকে ‘শান্তির পথে পদযাত্রা’ দ্বারা প্রচারিত সহানুভূতি ও সহনশীলতার বৃহত্তর বার্তাকেও প্রকাশ করে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজ়রায়েলের গাজ়া দখলের চেষ্টা, বাংলাদেশে অশান্তি কিংবা ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে সে দেশের প্রেসিডেন্টকে আমেরিকার অপহরণ— বিশ্ব জুড়ে যখন নানান অস্থিরতার বাতাবরণ, সে সময়ই ভিক্ষুদের সঙ্গে আলোকের শান্তিযাত্রা!

ওয়াক ফর পিস কেবল একটি ধর্মীয় যাত্রা নয়, এটি মানুষের সঙ্গে প্রকৃতি ও প্রাণীর সম্পর্কেরও এক প্রতীক। আলোকা প্রমাণ করেছে, শান্তির ভাষা বোঝার জন্য শব্দের প্রয়োজন নেই। সহানুভূতি, বিশ্বস্ততা আর ভালোবাসা এই অনুভূতিগুলোই তাকে ভিক্ষুদের সঙ্গে এক নীবির সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে।

এই :ওয়াক ফর পিস :কী ??

ওয়াক ফর পিস বা শান্তি পদযাত্রা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়। এটি একটি দীর্ঘ আন্দোলন। ভিক্ষুদের মতে, শান্তি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি চর্চা। আর সেই চর্চা শুরু হয় নিজের শরীর দিয়ে, নিজের গতির মধ্য দিয়ে। তাই তাঁরা হাঁটেন খালি পায়ে। হাতে কোনো ব্যানার থাকে না, মুখে কোনো দাবি থাকে না। তাঁদের হাঁটার ভঙ্গি, ধৈর্য, নীরবতা—সব মিলিয়েই হয়ে ওঠে বার্তা। মানুষ রাস্তার ধারে থেমে দেখে, ভাবতে শুরু করে। একদল বৌদ্ধ ভিক্ষু নিয়মিত এই ধরনের পদযাত্রা করেন বিশ্বের নানা প্রান্তে।

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের এই সব পদযাত্রা’র মূল উদ্দেশ্য কি ? উদ্দেশ্য হল আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি, অহিংসা, করুনা এবং মননশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। এই যাত্রার প্রধান বিশেষত্ব হল ভোগ বিলাস ত্যাগ করা। পদযাত্রা’র মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের লোভ, মোহ ও চঞ্চল  মনকে বশে এনে আধ্যাত্মিক মুক্তি বা নির্বান লাভ করার চেষ্টা করে থাকেন। হিংসা , যুদ্ধ  বা হানাহানি রোধ করে মানুষের মানুষে মৈত্রী ও আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। যে ভিক্ষুরা এই যাত্রায় অংশগ্রহণ করেন তাঁরা সাধারণত খালি পায়ে হাটেন, দিনে মাত্র একবার খান এবং খোলা আকাশের নীচে বিশ্রাম নেন। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল চরম কষ্ট সহ্য করে প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সমার্পন করা। কেননা স্বয়ং গৌতম বুদ্ধ ভিক্ষুদের নির্দেশ দিয়েছিলেন এই ভাবে একস্থান থেকে অন্য স্থানে পায়ে হেটে ধর্ম প্রচার করতে যাতে কিনা সমাজের সর্ব স্তরের মানুষ দুঃখ থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পায়।

তবে এইরকম পদযাত্রা’ এবং পদযাত্রা’র সাথী এক কুকুর ..... তার গল্প আমরা মহাভারতেও পেয়ে থাকি । সেখানে স্বর্গারোহনের সময়  যুধিষ্ঠিরের সঙ্গী হয়েছিল এক কুকুর। ঠিক সেইরকম বিশ্বের শান্তির খোঁজে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গী হয়েছিল এই ভারতবর্ষের " অলোকা " নামে এক পথকুকুর।  সমাজের জন্য,  শান্তির জন্য এইরকম পদযাত্রার উদাহরণ ইতিহাস খুজলে অনেক পাওয়া যাবে। এমন রাস্তাই দেখিয়েছিলেন সেই সময়ের দোদর্ন্ডপ্রতাপ রনোন্মাদ রাজকুমার মৌর্য সম্রাট অশোক।  ঞ্জানতাপস অতীস দীপঙ্কর দীর্ঘ পদব্রজে তিব্বতে গিয়েছিলেন।  আবার হিন্দুকুশ পেরিয়ে গঙ্গার দেশে এসেছিলেন হিউয়েন সাং। এছাড়াও আমরা জানি সুদূর মরোক্কো থেকে এসে পদব্রজে বিন্ধপর্বত পেরিয়ে দক্ষিণ দেশে গিয়েছিলেন ইবন বতুতা। আর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ঘাটলে দেখবো নোয়খালিতে পৃথিবীর বীভৎসতম দাঙ্গা থামাতে এই  শীর্নকায় দেশপ্রেমিক স্বাধীনতা সংগ্রামী বেছে নিয়েছিলেন এই পদযাত্রার পন্থা। আর বর্তমান সমাজজীবনে দেখতে পায় যে এখনও এই দেশের এক বিরাট অংশের মানুষের ভাত জোটে পায়ে হেটে। এ দেশে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পরে পায়ে হেঁটে।  আবার পায়ে পায়ে হেটেই নীরবে দাঁড়ানো যায় পাশে যার থেকেই গড়ে তোলা যায় প্রতিরোধ  / প্রতিবাদ।

আলোকা কোনো প্রশিক্ষিত পোষা কুকুর নয়। বাংলাদেশ কিংবা পশ্চিমবাংলার রাস্তায় রাস্তায় এমন চেহারার অসংখ্য কুকুরকে ঘুরতে দেখা যায়। সে জন্মেছিল কলকাতার রাস্তায়।   আর দশটা দেশি কুকুরদের মতোই তার জীবন শুরু হয়েছিল অনিশ্চয়তায়। কোনো মালিক কিংবা নির্দিষ্ট আশ্রয় ছিল না। কখনো ফুটপাতে, কখনো গলির ধারে, কখনো কোনো দোকানের শাটারের নিচে তার রাত কাটত। খাবার জুটত কখনো মানুষের দয়া থেকে, কখনো উচ্ছিষ্ট থেকে। টিকে থাকাই ছিল প্রতিদিনের একমাত্র কাজ। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পথে হেঁটে চলেছিল কলকাতার ‘পথের কুকুর’ আলোক। এখন সবাই তাকে চেনে ‘দ্য পিস ডগ’ নামে।আর এখন " ওয়াক ফর পিস  বা ‘শান্তি পদযাত্রা’র অংশ গ্রহন করে হয়ে উঠেছে ১৯ বৌদ্ধ ভিক্ষুর সর্বক্ষণের সঙ্গী । 



এই যাত্রাপথেই আলোক হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তার নিজের ইনস্টাগ্রাম আছে। ফেসবুকে লাইভ ট্র্যাকার দিয়ে যাত্রার আপডেট দেওয়া হচ্ছিল। ধীরে ধীরে সে হয়ে উঠেছিল এই শান্তিযাত্রার সবচেয়ে চেনা মুখ। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে অনেকে থেমে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ সেলফিও নিচ্ছেন। সেই সব ছবি আর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কয়েক মাস আগে কলকাতায় ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুর একটি দল শান্তি পদযাত্রার অংশ হিসেবে এসেছিলেন। তাঁরা তখন ভারতে ১১২ দিনের এক পদযাত্রায় বেরিয়েছেন। অচেনা পোশাক বা চেহারার ১৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে একসঙ্গে দেখে হয়ত কৌতূহলী হয়ে পড়েছিল আলোক। প্রথমে সেই কৌতূহলের বশেই তাঁদের সঙ্গে হাঁটা শুরু করে।

দিনের পর দিন ভিক্ষুরা হাঁটছেন, আর আলোক তাঁদের পাশেই আছে। তাঁরা যেখানে থামেন, সেখানেই সে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়ে। ভিক্ষুরা ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাঁটা শুরু করলে, আলোকও উঠে দাঁড়ায়। কেউ তাকে বেঁধে রাখেনি, কেউ বাধ্য করেনি। তবু সে যায়নি। ধীরে ধীরে সে আর ‘পথে পাওয়া এক কুকুর’ থাকে না। সে হয়ে ওঠে যাত্রারই অংশ।


শান্তি ও করুণার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতীক হয়ে ওঠা ভারতীয় উদ্ধারকৃত কুকুর অলোকা, বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শান্তি কর্মীদের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সফরকালে  নয়াদিল্লিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পশু অধিকার কর্মী মানেকা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে।

গান্ধীর জোরবাগ বাসভবনে আয়োজিত এই সমাবেশে বৌদ্ধ ভিক্ষু, শান্তিযাত্রী এবং পশু কল্যাণ সমর্থকরা একত্রিত হয়েছিলেন, যাঁরা একটি সাধারণ পাড়ার কুকুর থেকে অহিংসা ও সহাবস্থানের বিশ্বব্যাপী দূত হয়ে ওঠার অলোকার যাত্রাপথ তুলে ধরেন।

এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গান্ধী বলেন, অলোকার গল্পটি ভারতের পথকুকুরদের মধ্যে প্রায়শই দেখা যায় এমন গুণাবলী তুলে ধরে এবং তিনি এইসব সম্প্রদায়ের পশুদের প্রতি আরও বেশি সহানুভূতি দেখানোর আহ্বান জানান।

"বিশ্ব , আলোকার মধ্যে যা দেখে, মানুষ যদি প্রতিটি পাড়ার কুকুরের মধ্যে তার সামান্য অংশও দেখতে পেত, তাহলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ভিন্ন হতো। আলোকা ভারতের পথকুকুরদের সেরা গুণাবলীর মূর্ত প্রতীক...... আনুগত্য, সাহস, সহনশীলতা, শান্তি এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা," তিনি বলেন।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জানিয়েছেন, আলোকা তাঁদের সাথে হাঁটবার সময়  মাঝে মাঝে অসুস্থতা ও আঘাতসহ নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও, সে দলটির সঙ্গেই ছিল এবং অবশেষে ভিক্ষুরা তাকে দত্তক নেন ও তার নাম রাখেন "আলোকা", যার অর্থ "আলো" বা "আলোক"।

মেনকা গান্ধী সহ ঐ দলের সকলেই আশা প্রকাশ করেন যে, আলোকার ভারত সফর গৃহপালিত পশুদের প্রতি আরও বেশি সহানুভূতি জাগিয়ে তুলবে ।

সহনাভূতি, অহিংসা এবং প্রাণীদের প্রতি মানবিক আচরণ প্রসারে একটি অঙ্গীকারও নেওয়া হয় সেই  সভাতে। 


:<সংগৃহীত>: