Friday, 19 November 2021

পঞ্চমুন্ডীর আসনের সম্বন্ধে

 



পঞ্চমুন্ডীর আসন।

🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺

পঞ্চমুন্ডীর আসন কি?

#পঞ্চমুন্ডীর আসন কি ভাবে তৈরি করা হয়?

#পঞ্চমুন্ডীর আসনে বসে ধ্যানের উপকারিতা কি? 

স্বীকারোক্তি:-

                    গোড়াতেই স্বীকারোক্তি করি যে, পঞ্চমুন্ডীর আসন তৈরী করা অতোটা সহজ কাজ নয়। অনেক অনেক সাধ্য সাধনা করে, অনেক কষ্ট করে একটা পঞ্চমুন্ডীর আসন তৈরী করতে হয়।

             পঞ্চমুন্ডীর আসন সাধারণত তন্ত্র সাধনায় সিদ্ধিলাভ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এই তন্ত্র সাধনায় নারী ও পুরুষ কিন্তু বসে সাধনা করতে পারেন। কেবলমাত্র গুরুদেবের আদেশ ছাড়া এই পঞ্চমুন্ডীর আসনে বসা উচিত নয়। আর কেউ যদি শখ করে গুরুদেবের আদেশ ছাড়া এই আসনে বসে ধ্যান করেন তবে তিনি হয় উন্মাদ না হয় মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। আমি বেশ কয়েকটি পঞ্চমুন্ডীর আসন দেখেছি সেগুলি কিন্তু নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

উপাদান:- 

(১) একটি অপঘাতে মৃত্যুু চন্ডালের মাথা,

##########################

কারন, চন্ডালের কাজ হলো হিন্দুদের মৃতদেহ দাহ করে পঞ্চভূতে বিলীন করে দেওয়া। এমন একটা চন্ডাল বা চাঁড়ালের মাথা, যার মৃত্যু হয়েছে অপঘাতে অর্থাৎ সাপের কামড়ে, বিষ খেয়ে, গলায় দঁড়ি দিয়ে, এ্যাক্সিডেন্টে অথবা আগুনে পুড়ে।

(২) একটা সাপের মাথা।

#################

সাপ হলেই হবে না, বিষধর সাপ অর্থাৎ কেউটে বা গোখরো এমন সাপ চাই, যে সাপ ফনা ধরতে পারে এবং খুব বিষধর। কারন, সাপ হলো হিংস্রতার প্রতীক, তাই এমন সাপের মাথা নেওয়া হয়।

(৩) একটা বেজী বা নেউলের মাথা।

######################

কারন, বেজী বা নেউল হলো ক্ষিপ্রতার প্রতীক। তাই ক্ষিপ্রতার প্রতীক হিসেবে বেজীর মাথা নেওয়া হয়।

(৪) একটা শৃগাল বা শেয়ালের মাথা।

#######################

কারন, সমস্ত পশুদের মধ্যে শেয়াল সবচেয়ে ধূর্ত বা চালাক। সাধনা তে শীঘ্র সিদ্ধিলাভ করার জন্য শেয়াল বা শৃগালের মাথা নেওয়া হয়।


(৫) একটা হনুমানের মাথা  অথবা বানরের মাথা।

#################

কারন, হনুমান হলেন ব্রহ্মজ্ঞানী, ধীর,স্থির তাই সাধকের চিন্তাধারনাকে স্থির রাখার জন্য হনুমানের মাথা নেওয়া হয়।

স্থান নির্বাচন:-

#########

       শহর বা জনবসতি পূর্ণ এলাকায় পঞ্চমুন্ডীর আসন তৈরী করা যাবে না। পঞ্চমুন্ডীর আসন তৈরী করতে গেলে কোন নির্জন শ্মশানস্থান, বা গভীর জঙ্গলের মধ্যে স্থান নির্বাচন করতে হবে।

বৃক্ষ বা গাছ নির্বাচন:-

##############

         পঞ্চমুন্ডীর আসন তৈরী করতে গেলে কোন নির্জন স্থানে অর্থাৎ যেখানে মানুষের আনাগোনা খুব কম সেইখানে নির্দিষ্ট পাঁচটি গাছ যথা,,,,,,,

(১) শিমুল, (২) বেল, (৩) নিম, (৪) বট,(৫) পিপুল।

এই পাঁচটি গাছের মধ্যে যে কোন একটি গাছের নীচে আসন তৈরী করতে হবে।


তিথি 

#######

            কেবলমাত্র অমাবস্যা তিথিতে রাত ১২টার পর এই পঞ্চমুন্ডীর আসন প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হবে। তবে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে ও প্রতিষ্ঠান করা যায়, তবে গুরুদেবের আদেশে।

নিয়ম

#######

           প্রথমেই বলি সাধারণ মানুষের জন্য কিন্তু পঞ্চমুন্ডীর আসন নয়। এই পঞ্চমুন্ডীর আসনে সাধনা হলো গুরুমুখী, গুরুদেবের আদেশ ছাড়া এইসব ক্রিয়া করলে সাধক হয় উন্মাদ নাহলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

            উক্ত পাঁচটি মাথা সংগ্ৰহ করে প্রথমে ভালো করে পঞ্চগব্য দিয়ে ভালো করে শোধন করতে হবে। প্রথমে মনে রাখতে হবে ঐ মৃত প্রানীর মধ্যে সাধককে প্রান সঞ্চার করতে হবে।

           এক একটি মাথার উপর বসে, প্রথমে সাধককে টানা ৪৫ দিন ব্রহ্মচর্য ও হবিষ্যান্ন পালন করে, অর্থাৎ ব্রাহ্ম মুহূর্তে স্নান করে উদয় অস্ত গুরুদেবের আদেশ নিয়ে তাঁর দেওয়া মন্ত্র জপ করতে হবে। এই একই ভাবে পাঁচটি মাথার উপর আলাদা আলাদা করে ৪৫ দিন ধরে চলবে কঠোর ভাবে সাধনা, ব্রহ্মচর্য পালন ও হবিষ্যান্ন গ্ৰহন।


       এই ভাবে ৪৫ দিন করে পাঁচটি মাথার উপর সাধনার পর ঐ মাথাগুলির প্রানসঞ্চার হবে। তখন নির্ধারিত গাছের নীচে অর্থাৎ শিমুল, বেল, নিম, বট বা পিপুল গাছের তলায় তিন ফুট লম্বা ও তিন ফুট চওড়া গর্ত খুঁড়তে হবে। ঐ মাপের একটা পাথর অভাবে মার্বেল ও সংগ্ৰহ করে রাখতে হবে।

       ঐ গর্তের মধ্যে চারকোনে চারটি অর্থাৎ ঈশান, বায়ু, অগ্নি ও নৈঋত কোনে চারটি প্রানীর মাথা এবং ঠিক মাঝখানে চন্ডালের মাথা প্রতিস্থাপন করতে হবে। এর মধ্যে কয়েকটি গাছের শিকড় যথা, 

(১) শ্বেত মাকাল গাছের শিকড়।

(২) শ্বেত লজ্জাবতী গাছের শিকড়।

(৩) ডুমুর গাছের শিকড়।

(৪) সিংহ পুচ্ছ গাছের শিকড়।

            উপরোক্ত চারটি গাছের শিকড় দিতে হবে। তাছাড়া ও দিতে হবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পত্র যেমন, আতর, অগুরু, চন্দন, কুমকুম, তেল, লালবস্ত্র ও কারণ। 

            তারপর লাল বস্ত্রের উপর চারটি কোনে ঐ পাঁচটি মাথা প্রতিস্থাপন করে, অগুরু, কুমকুম, অষ্টগন্ধ্যা, শ্বেতচন্দন, রক্তচন্দন, হলুদ চন্দন চামেলী তেল, জবাকুসুম তেল, সিঁদুর ও কস্তুরী দিয়ে মন্ত্র উচ্চারণ করে অভিষেক করতে হবে। অভিষেকের পর পাথর বা মার্বেল পাথর চাপা দেওয়ার পর ঐ পঞ্চমুন্ডির আসনের সামনে টানা নয়দিন নয় রাত্রি পূজা অর্চনা করতে হবে। নয়দিন পর পাথর চাপা দেওয়ার পর গুরুদেবের আদেশ নিয়ে ঐ আসনে বসতে হবে।

         এই পঞ্চমুন্ডীর আসনে বসে সাধনা করলে খুব শীঘ্রই ঈষ্ট দর্শন হয়। তবে গুরুদেবের আদেশ ব্যতীত সমস্ত সাধনাই বিফল

*****" মনে রাখবেন এই পঞ্চমুন্ডীর আসন সাধনা সাধারণ মানুষের জন্য নয়। এগুলো হলো গুরুমুখী বিদ্যা। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা নিয়ম আছে, আছে আলাদা আলাদা মন্ত্র। কেউ কোনদিন কোন ভাবেই কৌতুহল বশত ভুলেও এই ধরনের ক্রিয়া করতে যাবেন না। এখানে নিজের আত্মরক্ষার মন্ত্র আগে প্রয়োগ করতে হয়, আমি কিন্তু কোন জ্যায়গায় কোন মন্ত্র প্রকাশ করিনি। 


সংগৃহীত

Tuesday, 14 September 2021

মহানাদ ব্রহ্মময়ী মন্দির

 


卐 মহানাদ  ব্রহ্মময়ী  কালী  মন্দির  卐


মন্দিরটি মহানাদ কালীবাড়ী নামে পরিচিত।  আবার অনেকেই একে ব্রহ্মময়ী কালীবাড়ী নামে ডাকে। মা এখানে ব্রহ্মময়ী নামে পরিচিত।  মন্দিরটিতে ন'টি চূড়া আছে। তাই একে নবরত্ন মন্দিরও বলে। মহানাদ গ্রামটি হল হুগলী জেলার  চুচূড়া সাবডিভিশনের পোলবা-দাদপুর ব্লকে। হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনের পান্ডুয়া স্টেশন থেকে এর দূরত্ব  মাত্র সাত কিলোমিটার।  আর চুচূড়া থেকে প্রায় ১৯ কিমি। 



তেত্রিশ কোটি দেবতার  দেশ এই ভারতবর্ষ।  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোরা এক এক অপূর্ব পরিবেশে এই  সব দেবতাদের অবস্থান। আর আমরা সাধারণ মানুষ , ধর্ম শাস্ত্র  অনুসরন করে,  পুন্য    লাভের আশায় ঘুরে বেড়ায় এইসব তীর্থস্থানে। পশ্চিমবঙ্গেও অবস্থান করছে এরকম নানান পীঠস্থান ও আদিমন্দির। হুগলীর  মহানাদ মন্দির এদের মধ্যে একটি। ১৮২২ সালে গভীর জঙ্গল পরিষ্কার করে এই মন্দিরের ভিত খোরা শুরু হয়। ভিত খোরার সময় কুশান সভ্যতার কিছু নিদর্শন পাওয়া যায়। কিছু মুদ্রা পাওয়া যায় যেগুলি কুশান ও গুপ্ত যুগের।  আর টেরাকোটা কাজের যে নিদর্শন পাওয়া যায় সেগুলি বেশিরভাগ গুপ্ত যুগের বলে ঐতিহাসিকরা চিহ্নিত করেন। মন্দির শেষ হতে সময় লাগে ৮ বছর। ১৮৩০ সলে মন্দিরের কাজ শেষ হয়। ৮৫ ফুট উচু তিন তলা এই মন্দির।  



জমিদার কৃষ্ণ চন্দ্র নিয়োগী কাঠ ও চিনির বড় ব্যাবসায়ী ছিলেন।  তিনি বাড়িতেই জাঁকজমক করে দূর্গা, লক্ষ্মী ও জগদ্ধাত্রী করতেন। পূজো শেষ হতেই বিগ্রহের বিসর্জন হয়ে যেত। তাই নিত্য প্রতিমা দর্শনের কোনও উপায় ছিল না। এই সব ভাবনা থেকেই জমিদার দক্ষিণা কালীর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। আবার কেউ কেউ বলেন  তিনি মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন বলে মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে চান। তখনি মহানাদ দক্ষিণ পাড়ার দু বিঘে জমির  জঙ্গল পরিষ্কার করতে লোকজন লাগান। মন্দিরের কাজ ১৮২২ সালে আরম্ভ হয়ে ১৮৩০ সালে শেষ হলে ৮ই মাঘ কৃষ্ণা চতুর্দশীতে রটন্তী কালী পুজোর দিন  পঞ্চমুন্ডি আসনের উপর তন্ত্র মতে দক্ষিণা কালী প্রতিষ্ঠা করেন।  তারপর থেকে একই ভাবে মায়ের পূজো হয়ে আসছে। কষ্টি পাথরের তৈরী এই মূর্তি। শোনা যায় যে মূর্তিকার এই মূর্তি তৈরী করেন, পরবর্তীকালে তারই হাতে তৈরী হয় দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীর মূর্তি। এও শোনা যায় পারিবারিক পরিচয়ের সূত্রে মন্দির প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পরে জমিদার বাড়িতে আসেন রানী রাসমণি। মন্দিরের গঠনশৈলী ও দক্ষিণা কালীর মূর্তি দেখে তিনি মুগ্ধ হন। তার কিছুদিন পর তাঁর লোকজনদের এনে মন্দিরের উচ্চতা, প্রতিমার খুটিনাটি লিখে নিয়ে যান।  রানী শেষে মহানাদ কালী বাড়ির আদলেই দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীর মন্দির তৈরিতে উদ্যোগী হন। মহানাদ কালীবাড়ীর বর্তমান বংশধর শ্রী স্বপন কুমার নিয়োগী। তাঁর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন " রানী রাসমণি মহানাদ কালী বাড়িতে এসেছিলেন বলে পূর্ব পুরুষদের মুখে শুনেছি। কিন্ত তার কোনও প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।"



মায়ের আসনের পাশাপাশি মাকে শয়ন দেওয়ান জন্য  সেগুন কাঠের একটি খাট আছে। নিয়োগী মশাই তাঁর ব্যবসার কাঠ দিয়ে এই  খাট বানিয়েছিলেন। এই খাটের বয়স এখন ১৯০ বছর।মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় নিয়ে আসা হয়েছিল  তান্ত্রিকদের। সেই থেকে  এখনো এখানে তান্ত্রিক মতে পূজো হয়। আলাদা আলাদা দিনে আলাদা রকম ভোগ ও হোম করে পূজো করেন। প্রচুর মানুষের ভীর হয় রোজদিন।  এছাড়াও  বিশেষ বিশেষ আমাবস্যায় বিশেষ হোম যঙ্গোর আয়োজন করা হয় নিয়ম মেনে। মায়ের মূর্তির দু দিকে শিবের মূর্তি রয়েছে। আগে শিবের পূজো হয় এবং পরে মায়ের পূজো হয়। মায়ের কাছে পুজো দিতে হলে ধূপ, মোমবাতি, ফলমূল বা মিষ্টি সব কিছুই নিজেকে নিয়ে আসতে হয়। কেননা এখানে কোনো দোকান নেই। কালীপুজোর দিন কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়। আবার শিবরাত্রীতে প্রতি বছর এখানে বিরাট মেলা বসে। তাতেও  হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান  ও দুই ২৪  পরগনা থেকে কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমান।  মন্দির চালানোর জন্য সেই সময়ই নিয়োগী বংশের লোকদের নিয়ে জমিদার কৃষ্ণ চন্দ্র একটি বোর্ড গঠন করেছিলেন।  তাদের সপ্তম পুরুষ শ্রী স্বপন কুমার নিয়োগী বর্তমানে মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব বহন করছেন।  জমিদার মশাই-এর আদেশ মেনে এখনও বংশের মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলে মন্দির পরিচালনা থেকে বঞ্চিত হন। মন্দিরের পূজো পরিচালনার জন্য বর্তমানে সতরো জন সেবাইত আছে।কালী পুজোর আগে এখানে সাজো সাজো রব দেখা যায়। প্রচুর ভক্তের সমাগমে দীপাবলীর অমাবস্যা তিথিতে মা পূজিত হন মহা সমারোহে। 


পর্যটনের তালিকায় এখন এসেছে এই মহানাদ মন্দির।  মন্দিরের ভক্তরা ও সেবাইতরা সরকারের পর্যটন দপ্তরের কাছে এই মন্দির নতুন রূপে সংস্কার করবার আবেদন জানান।  সেই মত  সরকারের পর্যটন দপ্তরের পক্ষ থেকে মহানাদ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং মন্দিরটিকে নতুন করে সংস্কার করবার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এর সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। এখন রাতে মন্দিরের সব আলো জ্বলে উঠলে মন্দিরের রূপ অন্য রকম হয়।


কলকাতা থেকে মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৬৪ কিমি মত। গাড়ী নিয়ে যেতে চইলে জি টি রোড বা দিল্লী রোড ধরে সহজেই চলে আসতে পারেন।  এছাড়া রেলে পান্ডুয়া বা চুচূড়া বা ব্যান্ডেল ষ্টেশনে নেমে বাস বা অটো বা টোটোতে করে মন্দিরে পৌচ্ছাতে পারেন।  এটুকু দৃঢ়ভাবে বলছি যে একবার মন্দিরটি দর্শন করতে এলে বার বার ছুটে আসতে হবে এই জায়গায়।একবার এসেই দেখুন যে এখনকার সবুজ ঠান্ডা কোলাহলহীন পরিবেশ  আপনার  মনকে কেমন শান্ত করে দেয় !!!



Friday, 10 September 2021

সিদ্ধিদাতা গণেশায় নম:

 

'ওঁ গাং গণেশায় নমঃ ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ'


গণেশ হলেন হিন্দুদের সর্বাধিক  পরিচিত ও সর্বাধিক পূজিত দেবতাদের অন্যতম।  তিনি গনপতি, পিল্লাইয়ার , বঘ্নিশ্বর, যানইমুগবতন, গজপতি, একদন্ত নামেও পরিচিত।  ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে গণেশর মন্দির ও মূর্তি দেখা যায়। জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে গনেশ ভক্তিবাদ মিশে গিয়ে গণেশ পূজার প্রথা বিস্তার লাভ করেছে। সাধারণত সকল হিন্দু সম্প্রদায়েই গণেশের পূজা প্রচলিত  রয়েছে।

সিদ্ধেশ্বর

হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থী তিথিতে গনেশের পূজা বিধেয়। পুরাণ মতে ভাদ্রপদ মাসের এই চতুর্থী তিথিতে জন্মগ্রহণ হয়েছিল সিদ্ধিদাতার। এই উৎসব গনেশ চতুর্থী বা বিনায়ক চতুর্থী বা বিনায়ক চবিথি নামে পরিচিত।  সাধারণত এই দিনটি ২০শে আগস্ট থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কোনোও এক দিন পড়ে। দশ দিন ধরে এই উৎসব চলে। চতুর্থী দুই দিনে পড়লে পূর্বদিনে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি দ্বিতীয় দিন মধ্যাহ্নের সম্পূর্ণ সময়ে চতুর্থী বিদ্যমান হলেও পূর্বদিন মধ্যাহ্নে এক ঘটিকার (২৪ মিনিট) জন্যও যদি চতুর্থী বিদ্যমান থাকে তবে পূর্বদিনেই গণেশ পূজা হয়।


ব্যাবসায়ে গণেশ পুজো কেন করা হয় ??

আমাদের দেশে শুভ নববর্ষে , অক্ষয় তৃতীয়ায় কিংবা কোনও ব্যবসার শুরুতে ঘটা করে গণেশ পূজা করা হয়। এই গণেশ দেবতার আগমন সুপ্রাচীন। ঋগ্বেদে 'গনপতি'  নামে একজনের উল্লেখ আছে। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে স্বয়ং ইন্দ্রকেই গনপতিরূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কালক্রমে তন্ত্র ভাবনার বিস্তারের ফলে গণপতি বলে একজন পৃথক দেবতার আবির্ভাব ঘটে।  ইনি শিব পার্বতীর পুত্র গণেশ। ইনি যে কোনও পূজোর আগে পূজো পান এবং যে কোনও শুভকর্ম সুষঠভাবে সম্পন্ন করতে পারদর্শী। এই গণেশ হলেন---- গণ + ঈশ। অর্থাৎ গণদের বা জনগনের ঈশ্বর। ইনি যে কোনও কর্মের বিঘ্ননাশকরূপে পরিচিত এবং সিদ্ধি আনতে অপরিহার্য। এ কারণে ব্যাবসার শুরুতে লাভবান হতে ভারতে সর্বত্র গণেশ পূজার প্রচলন দেখা যায়। শুভ নববর্ষ ছাড়াও ভাদ্র মাসে এবং মাঘ মাসের শুক্লা চতুর্থীতে গণেশের বিশেষ পূজার ব্যবস্থা আছে। এদেশে জন্মাষ্ঠমীর পরে যে শুক্লা চতুর্থী সেই  চতুর্থী গণেশ চতুর্থী নামে পরিচিত। এই দিনে ভারতের নানা জায়গায় গণেশের আনুষ্ঠানিকভাবে পূজো করা হয়।




গণেশের পূজা সর্বাগ্রে হয় কেন   ???

বরাহ পুরাণে লেখা আছে যে একদিন ব্রহ্মার হস্তক্ষেপে মহাদেব তাঁর রুদ্ররূপ সংবরন করে কুমারকে বর দিয়েছিলেন  ------ " সকলের আগে তাঁরাই  পূজা হবে।" এই পুরাণ থেকে আমরা জানতে পারি গণেশের জন্ম হয়েছিল মহাদেবের শ্রীমুখ থেকে। চিন্তামগ্ন মহাদেব দেখলেন পৃথিবী, জল,অগ্ণি ও বায়ুর মূর্তি রয়েছে। কিন্ত আকাশের কোনও মূর্তি নেই।  এরূপ চিন্তা করামাত্রই ফল। মহাদেবের অট্টহাসি থেকে আবির্ভূত হলেন সেদিন এক সর্বাঙ্গসুন্দর তেজোদীপ্ত কুমার।  কিন্ত বিপদ ডেকে আনলেন পার্বতী। কুমারের সুন্দর মিষ্টি কচি মুখখানি দেখে পার্বতী হৃদয়াবেগ রুদ্ধ করতে না পেরে আপ্লুত হয়ে পরলেন।  অপলক নয়নে স্নহসিক্ত দৃষ্টিতে নিরক্ষণ করতে লাগলেন তাঁর প্রিয় কুমারকে। এই আসক্তিলিপ্ত দৃশ্য 


দেখা মাত্র মহাদেব রুদ্ররূপ ধারন করে  শাপ দিয়ে বসলেন  সেই নিরপরাধ কুমারকেই। কুমারের গ্রীবায় বসল হস্তীমুন্ড, লম্বিত উদরে রক্তিম কায়ে যুক্ত হল নাগ-উপবীত। এ দৃশ্য দেখে সকলেই ব্রহ্মার নিকট প্রার্থনা করতে লাগলেন।  অত:পর ব্রহ্মার কৃপায় রুদ্রের ক্রোধ প্রশমিত হলে করুণার্দ্র নয়নে মহাদেব গণেশকে করে দেন আকাশের অধিপতি ও বর দেন " সকল দেবতার সর্বাগ্রে তাঁর পূজা হবে।"


গণেশ মূর্তির ভাসানের দিনকে কী বলা হয়?

মূলত যে দিন থেকে গণেশের পুজো শুরু হয়, সেই দিন থেকে ১০ দিনের পর এগারোতম দিনে ভাসান দেওয়া হয় গণেশের মূর্তির। এই দিনটিতে 'অনন্ত চতুর্দশী' বলা হয়। 'আসছে বছর আবার হবে'র বার্তা দিয়ে এমন শুভ দিনে ভাসন দেওয়া হয় সমৃদ্ধির দেবতাকে।








গণেশ কি ফুল  ভালবাসেন  ??

পরিজাত, মালতী, চাঁপা সহ নানারকম সুগন্ধী ফুল।  এছাড়া চন্দন,  অগরু, কস্তুরী,প্রদীপ ও ধূপ তাঁর খুবই প্রিয় জিনিস। 

তিনি খেতে পছন্দ করেন...........

বড় বড় তিলের নাড়ু, চিনির তৈরি মিষ্টি , মুড়কি, পিঠে, পায়েস এবং অন্যান্য সুস্বাদু ব্যঞ্জন। তাঁর প্রিয় ফলগুলি হল বেল, দাড়িম, খেজুর, আম, জাম, কলা এবং নারকেল। খাবারের সঙ্গে কর্পূর মিশানো ঠান্ডা গঙ্গাজলও তাঁর বিশেষ পানীয়। এসব পেলেই গণেশ ঠাকুর খুবই খুশি হন। 




গণেশের  বাহন  *$*

গণেশ গজমুন্ডধারী এবং স্থূলকায়। হাতে ভারী গদা। রজোগুনের প্রতীক স্বরূপ এই  কর্মবীর ঈষৎ রক্তবর্ন।  কিন্ত  প্রশ্নটা তাঁর বাহন ক্ষুদ্র ইঁদুর হল কি করে। পুরানে লেখা আছে, গণেশ কে দেখতে এসে পৃথিবী তাঁকে ইঁদুরটা দিয়েছিলেন।  আসলে ইঁদুর বা মূষিক হল সমাজের পতিত বা দলিত শ্রেনীর প্রতীক। গণেশ তাঁকে বাহন করে শোষিত,  অবহেলিত ও খেটে খাওয়া মানুষকে সন্মান দিয়েছিলেন।  তিনি যেমন একদিকে গজদন্ত ধারণ করে উচ্চ জাতিদের বরণ করেছেন,  তেমনি মূষিক বাহন করে উপেক্ষিত সম্প্রদায়কে কাছে টেনে নিয়েছেন। আর এটাও তিনি ভাবতেন যে, এই উভয়ের সমন্বয় হলেই প্রকৃত দেশ ও জাতির কল্যাণ হতে পারে। হয়তো তাঁর এই মহান জীবনদর্শনের জন্যই মহারাষ্ট্রে গণপতি উৎসব এত ব্যাপ্তি লাভ করেছে বলে অনেকে মতপ্রকাশ করেছেন।  আবার অনেকে এ কথাও বলেন যে , গণেশের বাহন মূষিক জীবের কর্মফল কর্তন করে সিদ্ধির পথ উন্মুক্ত কর দেন।

গণেশের হাতের চার অস্ত্রের বর্ননা  ৹৹৹ 

গণেশের চার হাতে রয়েছে যথাক্রমে শঙ্খ-চক্র-গদা ও পদ্ম। এই চারটি অস্ত্রই হল ভগবান বিষ্নুর।  তাই গণেশের হাতের শঙ্খের অর্থ হল জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে মঙ্গলের ও উৎসাহ উদ্দীপনা দেবার বস্তুবিশেষ। শঙ্খ ধ্বনিতে শুভ ভাবনা বৃদ্ধি পায় এবং অশুভ শক্তি দূরে পলায়ন করে। কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধের শুভ সূচনায় স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণও শঙ্খ ধ্বনি করেছিলেন।  সুদর্শনচক্র শৌর্য-বীর্য ও সাহসের প্রতীক স্বরূপ এক অস্ত্র বিশেষ। কালধর্ম ছেদনকারী এই অস্ত্রধারন করে গণেশ ভক্তদের বিঘ্ননাশ করেন এবং কর্মের বাধাবিপত্তি দূর করে সিদ্ধি এনে দেন। তখন ভক্তরা কর্মসিদ্ধি বা মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। গদা হল শৌর্য ও শক্তিমত্তার প্রতীক।  যাঁদের হাতে গদা থাকে তাঁরা খুবই পরাক্রমী ও শক্তিশালী। গদা হাতে গণেশ ভক্তদের সমস্ত বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার আশ্বাস দিয়ে থাকেন। অপরদিকে পদ্ম হল জীবনকে সৌন্দর্যে রূপায়িত করার ও নিরাসক্ততার প্রতীক।  পদ্ম পাঁকে জন্মায় কিন্ত গায়ে কোনও পঙ্ক গন্ধ নেই। পদ্মপাতা জলে থাকে কিন্ত জলবিন্দু ধারন করে না। অর্থাৎ পদ্ম বলতে চাইছে এই সংসারে ভগবানের জন্য কর্তব্যবোধে অনাসক্ত হয়ে কর্ম কর। বিষয়ে মনকে জড়িয়ো না। তাহলে মন পরমেশ্বরীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে উন্নত আনন্দ ও প্রেমে পরিপূর্ণ হবে। তখন মানবজীবন সুন্দর হয়ে সকলকে আমোদিত করবে।






গণেশ পূজোয় তুলসী পাতা লাগে না।

গণেশ পুজোয় তুলসী পাতার প্রচলন নেই। এক পৌরণিক কাহিনি মতে , তুলসী দেবীর সঙ্গে গণেশের সম্পর্ক ঘিরে রয়েছে কাহিনি, বলা হয়, তুলসী দেবী কেবলই বিষ্ণুর উপাসনা করতেন। বিষ্ণুদেব বাদে কারোর আরাধনা তিনি করতেন না। তবে তুলসী দেবীর সঙ্গে গণেশের বিবাহের কথা এগোতেই তাঁরা একে অপরকে অভিশাপ দেন বলে শোনা যায়। সেই থেকে গণেশ পুজোয় ব্যবহার করা হয়না তুলসী।

গণেশের  পরিবারে কে কে আছেন 

সিদ্ধিদাতা গণেশের বউ কে? কলা বৌ তার বৌ নন। তাহলে!

 সিদ্ধিদাতা গণেশের বউ হিসাবের আমরা যাকে জানি তিনি হলেন কলাবউ।এই কলাবউ কিন্তু গনেশের বউ নন আসলে কলাবউ হলেন গনেশের মাতা অর্থাত্‍ দেবী দুর্গার রূপ।তাহলে জানেন কি গনেশে বউ কে এবং সন্তান কে? জেনে নিন সিদ্ধিদাতা গনেশের বউ এবং সন্তান সম্পর্কে।

শিবপুরাণ অনুসারে, প্রজাপতি ব্রহ্মার দুই কন্যা ছিলেন সিদ্ধি ও বুদ্ধির।ব্রহ্মাদেবের এই দুই কন্যার সাথে বিয়ে হয়েছিল গণেশের।এরপর গনেশের দুই সন্তানের জন্ম হয়। সিদ্ধির গর্ভে 'ক্ষেম'এবং বুদ্ধির গর্ভে 'লাভ'।এই দুই পুত্র ছাড়াও গনেশের একটি কন্যা ছিল।এই কন্যার নাম হল 'সন্তোষী মা।




অন্য এক  পুরাণের  কাহিনী পড়লে জানতে পারি যে বিবাহের ব্যাপারে গণেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি দার পরিগ্রহ করবেন না। চিরকুমার থেকে তপস্যাতেই জীবনযাপন করবেন।  আর সেইমত ধ্যানধারনা নিয়েই রত থাকতেন।  কিন্ত ধর্মধ্বজের কন্যা তুলসির গণেশকে দেখে খুব পছন্দ হয়ে যায় এবং মনে মনে তিনি পার্বতী পুত্রকে দারুন ভালবেসে ফেলেন। শুধু তাই নয়, প্রণায়াবেগে তিনি সুন্দর ভাবে সেজেগুজে একদিন গণেশের কাছে গিয়ে তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব রাখলেন।  এতে ধৈর্যশীল গণেশের আত্মসংযমের বাঁধ ভেঙে গেল এবং তিনি তাঁকে অভিশাপ দিয়ে বললেন  " ওরে তুলসী, তুমি যেমন কামতুরা, তাতে তুমি দেবভোগ্যা না হয়ে অচিরেই অসুরভোগ্যা হবে।"  প্রণয় প্রতিহত হয়ে তুলসীও ক্রোধে জ্বলে উঠলেন।  তিনিও গণেশের মুখের ওপর বলে দিলেন  " তোমার ব্রহ্মচর্যব্রত ভঙ্গ হবেই। তুমি বিবাহ করতে বাধ্য হবে।"কালের বিধানে পরস্পর প্রদত্ত অভিশাপই সত্য হল। তুলসী শঙ্খচূড় নামে এক অসুরের ভার্যা হলেন  এবং গণেশ পুষ্টি নাম্নী এক দেববালার পাণিগ্রহন করলেন। এই দেববালার অপর নাম মহাষষ্ঠী। অপরদিকে কলাবউ গণেশের স্ত্রী নয়। কলাবউ হল দুর্গারই অন্য এক রূপ যা নবপত্রিকা নামে পরিচিত।  যাহোক,  তুলসী অভিশাপ দিয়েছিল বলে গণেশ পূজায় তুলসীপাতা আর লাগে না।

পুরান  ঘাটলে আমরা জানতে পারি গণেশের  সর্বসিদ্ধপ্রদ বারোটি নাম। এগুলি হল যথাক্রমে___ খর্বাকৃতি, একদন্ত,  রক্তবর্ন কলেবর, গজবদন, লম্বোদর,  স্থূলদেহ, বিঘ্ননাশক, ধূম্রবর্ন, চন্দ্রবদন, বিনায়ক,  গণপতি এবং গজানন। পতীর      কোলে বিষ্নুর বরে ও তারই অংশে গণেশের জন্ম হয় । বিষ্নুর অংশ স্বরূপ বলে গণেশেরও চার হাত এবং বিষ্নুর মতো তিনিও শঙ্খ-চক্র-গদা ও পদ্মধারী। মা পার্বতী স্বয়ং তপ:শক্তি বলে তাঁর  গনেশকে লাভ করেন। সাধারণ ভাবে তাঁর জন্ম হয়নি। কাজেই কোনও নায়ক বা পতি ছাড়াই গণেশের জন্ম হয়েছিল বলে তিনি বিনায়ক নামে পরিচিত।  আর ত্রিভুবনের সমস্ত  দেবতার ঈশ্বর বলে গণেশ । সমস্ত জনগনের পতি বলে গণপতি। তাকেঁ স্মরণ করে কর্ম শুরু করলে তিনি কর্মের বিঘ্ননাশ করেন বলে বিঘ্ননাশক । সর্বকর্মে সত্বর সিদ্ধি প্রদানের জন্য নাম হল তাঁর  সিদ্ধিদাতা। এছাড়া তাকেঁ নানারকম খাদ্যদ্রব্য দেওয়া হয় এফং তা ভক্ষন করলেই ভুঁড়ি প্রসারিত হয় বলে গণেশ হলেন লম্বোদর। শণির অশুভ দৃষ্টিতে তাঁর জন্মের পর মাথা খসে পড়েছিল এবং দেবরাজ ইন্দ্রের হাতির মাথাটি কেটে এনে স্বয়ং বিষ্নু লাগিয়েছিলেন _____ এ কারণে তিনি হস্তীবদন বা গজানন । দীনজনের সদা সেবক বলে গণেশের আরেক নাম হল হেরম্বদেব । অপরদিকে পরশুরামের সঙ্গে যুদ্ধ করে একটি দাঁতকে ভেঙে তিনি একদন্ত নামে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।  গণেশের রং রক্তবর্ন । দেহের গঠন অনুপম সৌন্দর্যে ভরপুর।  সমস্ত দেবদেবীর আশীর্বাদে অত্যন্ত মার্জিত,  সংস্কৃতিবান এবং ঞ্জানী দেবতা হিসেবে গণেশ খ্যাতিলাভ করেছেন।  



গণেশের দেহে হাতির মাথা কেন ??


সবচেয়ে জনপ্রিয় গল্পটি সম্ভবত শিব পুরাণ থেকে গৃহীত হয়েছে। এক দিন দেবী পার্বতী কৈলাসে স্নান করছিলেন। স্নানাগারের বাইরে তিনি নন্দীকে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন, যাতে তাঁর স্নানের সময় কেউ ভিতরে ঢুকতে না পারে। এই সময় শিব এসে ভিতরে প্রবেশ করতে চান। নন্দী শিবের বাহন। তাই প্রভুকে তিনি বাধা দিতে পারলেন না। পার্বতী রেগে গেলেন। তিনি ভাবলেন, নন্দী যেমন শিবের অনুগত, তেমনই তাঁর অনুগত কোনো গণ নেই। তাই তিনি তাঁর প্রসাধনের হলুদমাখা কিছুটা নিয়ে গণেশকে সৃষ্টি করলেন এবং গণেশকে নিজের অনুগত পুত্র রূপে ঘোষণা করলেন।

এরপর থেকে পার্বতী স্নানাগারের বাইরে গণেশকে দাঁড় করাতেন। একবার শিব এলেন। তিনি ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলেন। কিন্তু গণেশ তাঁকে বাধা দিলেন। শিব রেগে গিয়ে তাঁর বাহিনীকে আদেশ দিলেন গণেশকে হত্যা করার। কিন্তু তারা গণেশের সামান্য ক্ষতি করতেও সক্ষম হল না।

এতে শিব অবাক হলেন। তিনি বুঝলেন, গণেশ সামান্য ছেলে নয়। তাই তিনি নিজে গণেশের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এলেন। শিব গণেশের মুণ্ডটি কেটে তাকে হত্যা করলেন। একথা জানতে পেরে পার্বতীও রেগে সমগ্র সৃষ্টি ধ্বংস করে ফেলতে উদ্যোগী হলেন। তখন সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা তাঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করলেন। পার্বতী দুটি শর্ত দিলেন। প্রথমত, গণেশের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সকল দেবতার পূজার আগে তাঁর পূজার বিধি প্রবর্তন করতে হবে।

এই সময় শিবেরও রাগ পড়ে গিয়েছিল। তিনি পার্বতীর শর্ত মেনে নিলেন। তিনি ব্রহ্মাকে উত্তর দিকে পাঠিয়ে বললেন, যে প্রাণীটিকে প্রথমে দেখতে পাওয়া যাবে, তারই মাথাটি কেটে আনবে। কিছুক্ষণ পরে ব্রহ্মা এক শক্তিশালী হাতির মাথা নিয়ে ফিরে এলেন। শিব সেই মাথাটি গণেশের দেহে স্থাপন করলেন। তারপর তাঁর মধ্যে প্রাণের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হল। শিব গণেশকে নিজ পুত্র ঘোষণা করলেন এবং সকল দেবতার পূজার আগে তাঁর পূজার ব্যবস্থা করে দিলেন। সেই সঙ্গে তাঁকে সকল গণের অধিপতি নিযুক্ত করা হল।

গণেশের হাতির মাথা

বৌদ্ধধর্মে  গণেশ  ::



বৌদ্ধধর্মেও গণেশের উল্লেখ পাওয়া যায়। এই ধর্মে শুধুমাত্র বৌদ্ধ দেবতা বিনায়ক রূপেই গণেশের উল্লেখ নেই, বরং হিন্দু দেবতা রূপেও বিনায়কের উল্লেখ আছে। গুপ্ত যুগের শেষ পর্যায়ের বৌদ্ধ ভাস্কর্যে গণেশের মূর্তির সন্ধান পাওয়া যায়। বৌদ্ধ দেবতা রূপে বিনায়কের মূর্তিটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নৃত্যরত। এই রূপটির নাম ‘নৃত্য গণপতি’। উত্তর ভারতে এই রূপটি জনপ্রিয় ছিল। পরবর্তীকালে তা নেপালে গৃহীত হয় এবং তারও পরে তিব্বতে গৃহীত হয়। মালয় দ্বীপমালার চণ্ডী সুকুহ মন্দিরে নৃত্যরত গণেশের একটি মূর্তি দেখা যায়।

মঞ্জনগন (গণেশ) মন্দির,  বালি, ইন্দোনেশিয়া


নৃত্যরত গণেশের মূর্তি


জৈন ধর্মাবলম্বীদের গণেশ  卐卐

অধিকাংশ জৈন ধর্মাবলম্বী গণেশের পূজা করেন। তাঁদের বিশ্বাস, গণেশ কুবেরের কিছু কিছু দায়িত্ব পালন করেন।[৫] জৈন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বাণিজ্যের বিশেষ যোগ থাকায় তাঁদের কাছে গণেশ পূজার ধারণাটি বেশ গ্রহণযোগ্য হয়।

গণেশ গুম্ফা, উদয়গিরি 

বর্ধমানসূরি রচিত শ্বেতাম্বর জৈন গ্রন্থ আচারদিনকর (১৪১২ খ্রিস্টাব্দ) অনুসারে, দেবতারাও কাঙ্ক্ষিত দ্রব্য অর্জনের জন্য গণপতিকে প্রসন্ন রাখেন। এই গ্রন্থে আরও বলা হয়েছে যে, যে কোনো শুভ অনুষ্ঠান ও নতুন কাজ শুরু করার আগে তাঁকে পূজা করা হয়। এই প্রথা এখনও শ্বেতাম্বর জৈন সম্প্রদায়ে বেশ জনপ্রিয়। এই গ্রন্থ থেকে গণপতি বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার বিধিও পাওয়া যায়।

যদিও দিগম্বর ধর্মগ্রন্থগুলিতে গণেশের এই জনপ্রিয়তা দেখা যায় না। অধুনা ওড়িশার উদয়গিরি ও খণ্ডগিরি গুহাসমূহে খোদিত দুটি মধ্যযুগীয় মূর্তি এবং মথুরায় প্রাপ্ত একটি প্রাচীন মূর্তি ছাড়া কোনো দিগম্বর তীর্থস্থানে গণেশের মূর্তি নেই।


$*$* গণেশ পূজার ফলে ভক্তরা কি লাভ করেন  $*$*  



শাস্ত্রমতে গণেশের স্তবস্তুতি ও পুজোয় অশেষ কল্যাণ সাধিত হয়। কর্মের বিঘ্ননাশ হয়। গণেশ পুজো করলে গ্রহপীড়ার মধ্যে পড়তে হয় না। আর এই  কারণেই ব্যবসায়ীরা ব্যাবসায় ক্ষতির হাত  থেকে বাঁচতে,  ব্যাবসার সমৃদ্ধি কামনায় সেই  আদিকাল থেকে গণেশ পুজো করে আসছেন।  

গণেশ যেহেতু গণশক্তি বা সমষ্টিশক্তির প্রতীক,  সেহেতু, সকলের শক্তি তাতে ঐক্যবদ্ধ থাকে। ফলে, সেই শক্তির জোরেই যে কোনও বিঘ্ন খুব সহজেই অপসারিত হয়। তাই গণেশের পূজা ঠিক ঠিক সম্পাদিত হলে অন্য সকল দেবতার পূজা সার্থক হয়। এছাড়াও গণেশের অর্চনায় অষ্টপাশ অর্থাৎ ঘৃণা, অপমান,  লজ্জা, মাহ, মোহ, দম্ভ, দ্বেষ ও বৈগুণ্য প্রভৃতি বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ হয়। বিদ্যার্থীর বিদ্যা, ধনার্থীর ধন, পুত্রার্থীর পুত্র এবং মোক্ষার্থীর মোক্ষ লাভ হয়।

কোথায় স্থাপন করতে হবে গনেশ মূর্তি: অনেকে গৃহের মঙ্গল ও ব্যবসার উন্নতি লাভের জন্য সিদ্ধিদাতার পুজো করেন। কিন্তু কোন স্থানে তাঁর মূর্তি স্থাপন করতে হবে, সে সম্পর্কে বেশিরভাগই জানেন না। তাই দিনের পর দিন আরাধনার পরেও তেমন কোনও ফল মেলে না। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির পূর্বদিকে যদি গণেশ ঠাকুরের মূর্তি রাখা যায়, তাহলে সবথেকে বেশি সুফল মেলে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে উত্তরদিকে রেখেও পুজো করতে পারেন।

শ্বেত গণেশ: অনেকে বিশ্বাস করেন, বাড়ির ঠাকুরঘরে সাদা গণেশের মূর্তি স্থাপন করলে পরিবারে অশান্তির আশঙ্কা কমে। সেইসঙ্গে পরিবারে সমৃদ্ধি ছোঁয়া লাগে। তাই এবার থেকে গণেশ মূর্তি বাড়ি আনলে সাদা মার্বেলের মূর্তি আনুন!

গণেশের শুঁড়: সিদ্ধিদাতার মূর্তি আনার সময় খেয়াল রাখতে হবে, তার শুঁড় যেন ঠাকুরের বাঁ-হাতের দিকে বেঁকে থাকে। কারণ, বিশেষজ্ঞদের মতে এমন মূর্তি বাড়িতে রাখলে গৃহের উন্নতি হয়। সেইসঙ্গে অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

মোদক এবং বাহন: গণেশের হাতে মোদক এবং পায়ের কাছে বাহন, এমন মূর্তি বাড়িতে রাখলে গৃহের সুখ-শান্তি বজায় থাকে, তেমনি মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।

তাই পরিশেষে ভগবান বিষ্নুর সাথে গলা মিলিয়ে পরমভক্তি  সহকারে সর্ববিঘ্ন বিনাশক গণপতির স্তব করতে ইচ্ছা করে    "  হে সিদ্ধেশ্বর গণেশ,  তুমি সকল দেব ও সিদ্ধগণের শ্রেষ্ঠ,  যোগীদের গুরু , তুমি সর্বস্বরূপ, সকলের ঈশ্বর এবং ঞ্জানরাশিস্বরূপ। তুমি অব্যক্ত,  অক্ষর, নিত্য,  সত্য  এবং আত্মস্বরূপ, তুমি বায়ুতুল্য নির্লিপ্ত,  অক্ষত এবং সর্বসাক্ষী। সংসার সাগরের পারবিষয়ে তুমি মায়ারূপ পোতারোহী জীবগনের দুর্লভ কর্ণধার স্বরূপ  এবং ভক্তগনের প্রতি অনুগ্রহকারী।  তুমি ধার্মিক,  ধর্মস্বরূপ, ধর্মঞ্জ এবং ধর্ম  ও অধর্মের ফলদাতা। তুমি সংসার বৃক্ষের বীজ এবং তদাশ্রিত অঙ্কুর। তুমি স্ত্রী, পুরুষ ও নপুংসকের স্বরূপ এবং অতীন্দ্রিয়। তুমি সকলের আদিতে অবস্থিত,  অগ্রে পূজনীয়, সকলের পূজনীয় এবং গুনের সাগর। তুমি আপনার ইচ্ছানুসারে কখন সগুন এবং কখন নির্গুন ব্রহ্মারূপে অবস্থান কর। তোমাকে ভক্তিপূর্ন নমস্কার জানাই।"


Sunday, 8 August 2021

অন্ত:সলিলা ফাল্গুনী

 


নদীর অর্থ বহমান জলধারা। কিন্তু এর ব্যাতিক্রমও আছে। এমন নদীও আছে যার স্রোতধারা গুপ্ত। তিনি অন্তঃসলীলা।বহমান স্রোতকে বক্ষে লুকিয়ে যে নদী অস্তিত্ব রক্ষা করে সেই নদীর নাম ফাল্গুনী বা ফল্গু নদী। ভারতের পবিত্র নদী ফল্গুর অবস্থান গয়াধামে। আমাদের ভারতবর্ষের পৌরাণিক কাহিনী ঘাটলে দেখা যায় যে দেবদেবীর অভিশাপের সাথে নদীর এক সংযোগ রয়েছে। কিন্ত ফল্গু নদীর ক্ষেত্রে কাহিনীটি একটু অন্য রকম।  এঁর সঙ্গে স্বয়ং বিষ্ণু দেবের সম্পর্ক গভীর।  কেননা গয়াধাম গঠনের যে কাহিনী আছে তাতে বিষ্নু নিজেই এই তীর্থের প্রতিষ্ঠিতা। এই তীর্থেই তাঁর পদচিহ্ন অঙ্কিত আছে। কিন্ত পবিত্র তীর্থে বহমান হয়েও ফল্গু অভিশপ্ত হ'ল কী করে ?????

বৈজ্ঞানিক কারণ  ::

নদী ভূ-পৃষ্ঠে প্রবাহিত হয়। কিন্তু কোন কোন সময় নদীর প্রবাহ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে হঠাৎই ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। সাধারণত চুনাপাথর-গঠিত অঞ্চলে এরকম হতে পারে। চুনাপাথরের সচ্ছিদ্রতা ও প্রবেশ্যতা বেশি (চুনাপাথর জলে দ্রবীভূত হয়) বলে নদী চুনাপাথর-গঠিত অঞ্চলে এ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ভূ-অভ্যন্তরে প্রবাহিত সেই নদীকে বলে অন্তঃসলিলা বা ফন্তু চুনাপাথর-গঠিত অঞ্চল পার হয়ে নদীটি নির্বারিণীরূপে পুনরায় ভূ-পূষ্ঠে আত্মপ্রকাশ করে।

আগে জেনে নিই ফল্গু নদীর উৎপত্তির কথা

গয়ায় দেখতে পাওয়া ফল্গু নদী কেন অন্তঃসলিলা? রামায়ণের কাহিনীটি ছাড়াও এই নদীর অন্তঃসলিলা হওয়ার আর  ব্যাখ্যা  কি?

রামায়ন "একরকম গল্প" বলে মানি। ওটাকে "ইতিহাসের রেফারেন্স" হিসেবে ধরা যায়।

রামায়নের সময়ও নিশ্চয় ফল্গু এরকম অন্তসলিলা ই ছিল। তাই ওই অভিশাপের গল্প লেখা হয়েছে।

কিন্তু একটু খোঁজ করলেই বৈজ্ঞানিক বা ভৌগলিক কারণ জানা যাবে।

আর একবার বলি প্রশ্নে উল্লেখিত "রামায়ানের কারণ" কিন্তু শুধুই একটা গল্প কথা বা পৌরাণিক চরিত্র মহিমান্বিত করা। ওটা কোনো কারণ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে যে ফলগু এরকম, তার একটা প্রমান।

💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧💧

প্রকৃত কারণ

বিহারের গয়া এর ৫ কিমি দক্ষিণে দুটি ঝর্নার মিলিত ফল হলো এই ফল্গু। ঝর্না দুটির নাম লিলাজান আর মোহনা, যেগুলো উৎপন্ন হয়েছে হাজারীবাগ মালভূমির  (ছোটনাগপুর মালভূমির অংশ) করাম্বে পাহাড় থেকে। 

বর্ষার জলে পুষ্ট : লিলাজান আর মোহনা দুটোই বর্ষার সময় পাহাড়ের জল বয়ে নিয়ে গিয়ে ফল্গুতে দেয়।

বেশি বর্ষাতে ফল্গুতে বন্যাও হয়, কিন্তু অন্য সময় সামান্য ঝর্নার জল ই আসে যা খুবই কম। তাই প্রবাহ নেই। আমাদের চারপাশের অনেক নদীর হাল ও একই। তাই ওপরে জল থাকেনা বর্ষা ছাড়া।

বালুময় মাটির উপস্থিতি: এই অঞ্চলের মাটি বালুকাময় এবং মোটা দানার যা জল শুষে নিতে পারে খুব তাড়াতড়ি।

এবার দেখুন বালুময় মাটির গুন

এই কারণে যে অল্প পরিমাণ জল ঝর্না থেকে আসে, টা শোষিত হয় নদীর বালুকাময় মোটা দানার মাটির ফাঁক দিয়ে।

কিন্তু সামান্য হলেও ধারাবাহিক প্রবাহ থাকায় এই শোষিত জল একটু নিচেই পাওয়া যায়। কিন্তু এই জলের সরবরাহ বেড়ে গেলে অবশ্যই জল ওপর দিয়েই বইবে। বর্ষা তে যেমন হয় সেরকমই।

ঝর্নার প্রবাহ থেকে খুব কম জল আসে সেটা আগেই বললাম। কিন্তু শুধু ঝর্নার জলের ব্যাপার হলে হয়তো একটু বেশি খু৺ড়লে তবেই জল আসতো। কিন্তু একটু খু৺ড়লেই জল পাওয়ার আর একটা খুব বড়ো কারণ আছে।

দূষণ: হ্যাঁ। ফল্গু নদীতে পাশাপাশি এলাকার নর্দমার জল ফেলা হয় (বা হতো)। সেই জল ও ফল্গুর বালুকাময় মাটির একটু নিচেই জলের উৎসের কাজ করে থাকে।

এই জল খুবই দূষিত যা এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলকেও দূষিত করে চলেছে সমানভাবে।

এই হল প্রকৃত কারণসমূহ।

এবার পৌরাণিক কাহিনী কি বলছে......

বনবাসে রাম, সীতা, লক্ষণ বেশ অনন্দেই কাটাচ্ছেন।  এক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। মৃত পিতা দশরথের শ্রাদ্ধকার্য সম্পন্ন করার জন্য  তারা সকলে ফল্গু নদীর পবিত্র তীরে উপস্থিত হলেন।  নদী তীরে সীতাকে বসিয়ে রেখে রাম, লক্ষণ গেলেন শ্রাদ্ধের প্রুয়োজনীয় জিনিস জোগার করতে। সীতা নদীতীরে বসে বালু নিয়ে আনমনে খেলা করতে লাগলেন।  এদিকে সময় অতিক্রান্ত হতে লাগল।  কিন্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে পিন্ড ও জলদান করতে হবে ___ একথা শ্রীরাম বিস্মৃত হলেন। হঠাৎ সীতা দেখলেন  রাজা দশরথ দুহাত প্রসারিত করে তাঁর কাছে পিন্ড ও জল চাইছেন।সীতা জোড়হাতে তাকেঁ একটু আপেক্ষা করতে বললেন,  কেননা , তাঁর স্বামী পিন্ডদানের জিনিসপত্র সংগ্রহ করে অল্প সময়ের মধ্যে উপস্থিত হচ্ছেন।  কিন্ত দশরথ জানালেন তিনি ক্ষুধার্ত।  এখনই জলদান দরকার।  সীতা জানালেন ___" পিতা আপনি কেন  বিদেহী অবস্থায়? নদীতীরে বালু ছাড়া আর কিছুই তো নেই।  তিনি জলদান করবেন কি দিয়ে ?? দশরথ জানালেন---- " পুত্রী, আমি অমৃতলোকে স্থান  পেয়েছি। সেখানে জেনেছি তুমি স্বয়ং দেবী হরিপ্রিয়া কমলা। তোমাকেই আরাধনা করে বণিকগন। তুমি সম্পদ, ঐশ্বর্যের দেবী। তোমার কৃপায় ভিখারীও সম্রাট হতে পারে। পুত্রী সীতা, তুমি আমাকে বালি দ্বারা পিন্ড প্রদান কর।  আমি তোমার পিন্ড প্রাপ্তি করে তৃপ্ত হব। তুমি আমার কাছে রামের সমান।"  সীতা নিরুপায় হয়ে অঞ্জলি পূর্ণ করে বালুকারাশি নিবেদন করলেন।  দশরথও আনন্দচিত্তে তা গ্রহন করে ফিরে গেলেন।  কিন্ত এই ঘটনা তার কাছে এক সমস্যার সৃষ্টি করল। রাজা দশরথ যে পিন্ড গ্রহন করেছেন এবং সেই পিন্ড কেবল বালি দিয়ে পূর্ণ  ----- একথা তাঁর পুত্ররা বিশ্বাস করবেন কি ? তাই তিনি পিন্ড দানের ঘটনাটির সাক্ষী রাখলেন । সাক্ষী রইল পাঁচজন _____ ফাল্গুনী নদী, অক্ষয় বট, এক ব্রাহ্মণ,  তুলসী গাছ  ও গাভী।

এর পরে রাম নদীতটে উপস্থিত হলেন। সীতার হাতে বালি দেখে--- সীতা বালি নিয়ে খেলা করছিলেন কিনা জিজ্ঞাসা করলেন।  সীতা তাকে সমস্ত ঘটনা জানালেও  রাম বিশ্বাস করলেন না । তাই রাম সমস্ত উপকরন দিয়ে আবার পিতৃপুরুষকে পিন্ড গ্রহনের জন্য  আহ্বান করলেন।  কিন্ত পিতা দশরথসহ কেউ-ই সেই পিন্ড গ্রহনের জন্য এগিয়ে এলেন না। সীতা আবার পিন্ড দানের কথা জানালেন এবং বললেন  " শ্বশুর মহাশয় আমাকে দেখা দিয়ে আমার কাছে বালুকার পিন্ড  ও জল চাইছিলেন। তাই তিনি দিয়েছেন। " রামচন্দ্র শুনে বললেন  --- " পিতা কেন পুত্রবধুর কাছে পিন্ড চাইবেন? এই ঘটনার  প্রমাণ কি  ? এই ঘটনার সাক্ষী কে ? " তখন সীতা ফল্গু নদী, ব্রাহ্মণ, তুলসি গাছ, বট গাছ ও গাভীকে দেখিয়ে সেই  পাচঁজন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসা করতে বললেন।  কিন্ত হায়, অক্ষয় বট ছাড়া কেহই  সত্যকথা জানালেন না। এমত অবস্থায় রাম  দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে আবার পূর্বপুরুষদের আহ্বান করলে আকাশমার্গে তাঁদের কন্ঠে উচ্চারিত হল " জনকনন্দনী সীতার কাছ থেকে আগেই আমরা পিন্ড গ্রহন করেছি। আবার কেন তুমি আমাদের আহ্বান করছ।সীতা যে পিন্ড দান করেছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট। "  এবার রাম সীতার কথায় বিশ্বাস করলেন।  কিন্ত সীতার মন ক্রোধে পূর্ণ হয়ে উঠল এই ভেবে যে তিনি পাঁচজনকে সাক্ষী রেখেছিলেন তারা কেউ -ই তাকে মান্য করল না। ক্রদ্ধ সীতার মুখ থেকে অভিশাপ বাক্য উচ্চারিত হল। ব্রাহ্মণকে শাপ দিলেন  " ঘরে  যতই দ্রব্য থাকুক , ব্রাহ্মণ তবুও ভিক্ষা বা চেয়ে বেড়াবে। তীর্থ ক্ষেত্রে  থেকেও কখনও তুষ্টি হবে না, লোভী বলে সকলে চিহ্নিত করবে। আর এই অভিশাপ কলিযুগে আরও প্রভাবশালী হবে। " তিনি গাভীকে বললেন  " কেউ তোমার মুখের দিকটি পূজো করবে না "। তুলসীকে অভিশাপ দিলেন  " তুমি হরির পাদপদ্মে থাকো, অথচ তোমার মুখে এমন অসত্য বচন। আমি যদি সত্য হই তবে আমার অভিশাপ অক্ষরে অক্ষরে ফলবে। তোমাকে এই বলে শাপ দিলাম  যে নারায়ণের পদচিহ্ন ধারণ করে এই তীর্থে পবিত্র হলেও এই তীর্থের কোথাও তোমার স্থান হবে না।" এরপর সীতাদেবী ফল্গু নদীকে জিজ্ঞেস করলেন ------ বলো নদী, তুমি তো দেখেছ যে আমার শ্বশুরের আত্মা এখানে এসেছিলেন।  আমার কাছে পিন্ড চেয়েছিলেন।  আমি দিয়েছি। রঘুনাথকে সব সত্য বল। ফল্গু উত্তরে বলল ----- জানকী দেবী, আপনি কেন রঘুনাথের সামনে অসত্য বলছেন। আমি পবিত্র নদী। এই গয়াধামে আমার জলে সকলে পিন্ড দেয়। আমি কিভাবে মিথ্যা বলি। এখানে স্বর্গীয় রাজা দশরথের  আত্মা আসেননি। আর আপনিও পিন্ড দেননি। এই কথা শুনে সীতা ক্রোধে ফেটে পরলেন। তিনি ফল্গু নদীকে অভিশাপ  দিলেন  " বিষ্ণুর কৃপায় তোমার জলে এই তীর্থে পিন্ড দান সম্পন্ন হয়। কিন্ত আজ থেকে  এই  গয়া তীর্থেই  তুমি অন্ত:সলিলা হবে।" এবার  বট বৃক্ষকে বললেন  ----- বাছা বট, তুমি সত্যি বলো, নাহলে স্বামী ভাববেন আমি অসত্য বলছি। তুমি বল যে এখানে আমি আমার  শ্বশুরের উদ্দেশ্যে বালি দিয়ে পিন্ড দিয়েছি। বট একথার ভক্তিভরে উত্তর দিল ------ মা, প্রভু অন্তর্যামী। তিনি সব জানেন।  তবুও আমি বলছি ---- আমি দেখেছি আপনার শ্বশুর তথা শ্রীরামচন্দ্রের পিতা স্বর্গীয় রাজা দশরথের আত্মা এখানে এসে আপনাকে পিন্ড দিতে বলেছিলেন।  আপনি বালুকা দ্বারা পিন্ড দিয়েছেন।  আমি এই  ঘটনার সাক্ষী। সত্য সাক্ষ্য প্রদান করেছিলেন একমাত্র এই অক্ষয় বট। তাই সীতা তাকে বললেন  "আজ থেকে এই তীর্থে এসে যে অক্ষয় বটের তলায় পিন্ডদান করবে তার পূর্বপুরুষ অর্চনা সার্থক হবে। তোমায় আশীর্বাদ করি , তুমি চিরজীবি ও অক্ষয় হও।"এই জন্য  দেখা যায় যে বট বৃক্ষের ঝুড়ি যেখানে নামে , সেখানে অপর গাছ হয় । বট বৃক্ষ তলে দেবতারা থাকেন।  সাধনার উপযুক্ত যে বৃক্ষ গুলি আছে তাদের মধ্যে বট একটি। অপরদিকে দশরথের আত্মা রামসীতাকে দেখা দিলেন। বললেন  ----- পুত্র রাম,  আমি সীতা  প্রদত্ত বালুকার পিন্ড তৃপ্তির সাথে নিয়ে প্রসন্ন  হয়েছি। আমিই সীতাকে এরূপ আদেশ করেছিলাম। " রাম সীতা দশরথকে প্রনাম  জানালেন।  

বোধগয়াতে এই ফল্গু নদীর শাখাই "নিরাঞ্জনা" বা "নৈরঞ্জনা" নামে খ্যাত।  এই নদীর পাশেই কঠোর তপস্যায় মগ্ন হয়েছিলেন  গৌতম বুদ্ধ। বেশ কয়েক বছর ধরে কঠোর সাধনার পর তিনি একদিন  এই নৈরাঞ্জনা নদীতে স্নান করে সুজাতা নামে এক নারীর কাছ থেকে এক পূর্ণ পাত্র পায়েস গ্রহন করে আবার  সাধনায় বসে সিদ্ধিলাভ করেন। সুতরাং বৌদ্ধদের কাছেও এই ফল্গু নদী অত্যন্ত পবিত্র রূপে পূজিত হয়। কিন্ত সীতার অভিশাপে সেই দিন থেকে ফাল্গুনী বা ফল্গু নদীর স্রোত মাটির তলায় বহমান।  উপর থেকে দেখা যায়  শুধুই  বালুকারাশি। ফল্গু, ফাল্গুনী বা নৈরাঞ্জনা যে নামেই ডাকি না কেন , এই  নদীর উপস্থিতি ভিন্নরকম। নদী একাধারে পুণ্যতোয়া অপরদিকে অভিশপ্ত।  হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মে এই নদীর গুরুত্ব অসীম। 

Sunday, 1 August 2021

আন্দামানসে ম্যাজিক: ব্যারেন দ্বীপ

 

 
আমাদের মহিলা মিডিয়া পরীক্ষা করুন
  
চিত্র আল্ট


সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপ

সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপ 

সম্মেলন ও নোবর দ্বিপ্পুঞ্জার ব্যারেন দ্বিপথ কিছুটা শ্রেনোমারের হিসাবে অনুধাবন করা যেতে পারে, কারণ তার পায়ের নীচে একটি সমৃদ্ধি ঘটেছে সমর্থন করে। এর সামুদ্রিক বৈজ্ঞানিক চিত্রগুলি পর্যবেক্ষণ এবং অঞ্চলঘটিত দুর্ঘটনা, অনাকাঙ্ক্ষিত সাইটগুলি সম্পূর্ণরূপে তার সাথে পড়া উচিত। আমাদের অবদানকারী, হায়াত সাদ্রি, এই আগুনের দ্বিপক্ষীয় চারপাশে আন্ডারসাইড ভিস্তাস অন্বেষণের সাথে তার ঘটনার সাথে যোগাযোগ করেছেন।

চিত্র ক্রেডিট (সমস্ত চিত্রের জন্য): ভূত বাগদিয়া

 

আমি তার আকাশের নীচে কোথাও শিবিরকে অবাক করে দেখি, আমার ঘুম ভেঙে শুকিয়ে গেছে, ধীরে ধীরে আমার চুলের বালির ঝরনা পড়ে আছে। বিভ্রুন জাগ্রত স্নানাপিং, আমি শিশুদের উপর মনোযোগ দিয়েছি, শ্রদ্ধেয় বকবক। আমি একবার সোজা হয়ে গেলাম এবং চুল পড়তে শুরু করলাম, আমার মাথার স্তর, আমার মাথার ত্বকেকে গ্রিট এবং বালির দানা অনুভূত হয়েছে। আমি চম্পেসের শীলালাম - বালু আসলেই বালুচর নয়,  আমি বালিকা কৃষ্ণ ঘন দানদার আগ্নেয় শীতকে দেখেছি এবং আমি তাকে দেখেছি দ্ব

ব্যারেন দক্ষিন এশিয়ার একক সত্য সক্রিয় আগ্নেয় দ্বিপ্প। ভারতবর্ষ ও নোবার দ্বিপক্ষীয়জবিত, ব্যারেন রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারের প্রায় 135 কিলোমিটার উত্তর পূর্বে  প্রকাশিত কিছু ঘটনার সামুদ্রিক ঘটনা হোস্টে নাটকের জীবনকালীন আশা করা যায় না। রাখা ালাকা পড়েছে াড়া াড়ােকে  এই বছরের অংশটি প্রবাল বা উজ্জ্বল বর্ণিত স্পঞ্জ দ্বারা রুপায়িত করা যাক যা কোনও দৃষ্টিতে দেখা যায় না -  একবার দেখার জন্য দর্শনীয় অগভীর জল্লু হার্ড কোর্টের ফুটবলের দ্বিপক্ষীয় জায়গাগুলি থাকে । বিপুনি এবং গোলাপী হ্যাম্প্রিটি প্রথম প্রাইমাল কার্পেট করা দুবজাহাজার ছাপগুলি পঞ্চাশ মিটার ছাড়িয়ে যান। নীচে ভিটা পর্যালোচনা করুন!

 

সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপছোট রাশিচক্র নৌকা ব্যারেন দ্বিষ্ঠিতের আগে

সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপকিছু সোমবার চারপাশে 5 লাইন স্ক্যানার সংগ্রহ

 

ব্যারেন দ্বিতীয়া চৌপাশে স্কুবা নিবন্ধের জন্য পূর্বের লগিংয়ের জন্য পরীক্ষা করা ছোট মুরিং লাইন, একবারে খুব কম জলকণার অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না, তবে এটি নেটব্যাক্টর এন্ট্রি এবং ফ্রি স্ট্রেন্টস আমরা  আমাদের তথ্য আগে ডুবুরির আগে আমরা ডুবুরির জন্য সুরক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে আরও জোরদার চলি, কারণ বার্নারকাটার জলরাশী হ্রদেকরেকটিসিটিসিটি; প্রায়শই আমরা চিত্রিত ঘড়ির ঘড়ির দু'জন শ্রোত দ্বৈত একপাশে ঘেরা এবং দ্রুত এই দ্বিপদী আশেপাশে ঘড় বেড়াতে যা হেতু শ্রাদিত না। নৌকা ছেলেরা সেই বর্তমানটিকে  'পাগলা পানী'  (পাগল জল)  বলে ডাকে  , কেবল বুঝতে পারছিলাম না কারণ আমরা  যে  জলটি  করছেতুপর্ণা মনে হচ্ছে না যে মায়ার বা মৌসুমে আপনি তার উপর নির্ভর করতে পারেন।

সংমন ও নওবার দ্বিপ্পুঞ্জের চাঁপাশে, সমুদ্রের ও সমুদ্রের নীচে বালু সাদা  বিপরীত, বরেন দ্বিধা বৌপাশে স্পর্শকাত এবং জাল্লা বালু কৃষ্ণ কৃষ্ণ আগ্নেয়গিরি ঘটনা ধূমপান এবং দ্বি বার্ষিক চারিদিকের অংশ। আমরা বিশ্বাস রাখি যে এখানে সর্বদা পরিষ্কার থাকে ভার এর মাধ্যমে, এই বিষয়টির নীল জলন্ধর অন্ধকার কালো পটভূমির কুকুর এবং প্রচ্ছন্ন রঙের প্রশ্নগুলি উজ্বলতার সাথে যাত্রা করা হয়েছে।

খুব শীঘ্রই ডুবুরির জন্য এখানে নেমোস্টিক সব সময় একটি বিচলিত অবস্থান। স্ফটিক-স্পষ্ট দর্শনা এবং চূড়ান্তভাবে গিরিখার নিবিড় লক্ষণীর নামটি চিহ্নিত করা, আপনার স্মৃতিচারণ করা যাকে শেকার নেওয়ার জন্য একবার সেকেন্ডারের জন্য চিহ্নিতকরণের জন্য চিহ্নিত করা হত এবং তার সবই ধরা পড়ে! চারপা চার চার আপনার পা আপনার আপনার আপনার আপনার আপনার আপনার আপনার আপনার আপনার আপনার স আপনার আপনার চার আপনার আপনার আপনার আপনার আপনার প্রবাল, স্পঞ্জস, সমুদ্রের এবং তারা মাছের মাছের মাছের জলের পরিমাণ দেখায় মিটার নীচের অংশে নেমেশের কাছে থাকা কালো শিলা এবং ভবনের বিপরীত অংশটি যদি প্রথম দর্শনের জায়গায় যায় তবে আপনি আশা করতে পারেন। রৌপ্য জ্যাকালয় স্কুলগুলি আরও বড় আকারের ফিউসিলার স্কুলগুলি আপনার মাথাকে স্পিন করুন! বিষ্ণু সমুদ্র ক্রেইটসের দর্শনার্থী, এবং তার সাথে যোগাযোগ করা যায় না অনুমতি প্রতিবেদন আমরা এখানে এসেছি,  আমরা ভাগ্যবান নাম রিফ হাঙ্গার এবং ম্যান্টাসাসে, কখনও কখনও ঘটনাক্রমে সমুদ্রীয় ঘটনা ঘটে! এই জলের কোন পরিস্থিতি হ'ল ডলফিন, পাইলট থিমি, সেল্ফিশ এবং মারলিন, কোনওতিহ্যবাহী তার পরিবেশে অবস্থানের জন্য একটি পার্শ্ববাসীর উপস্থিতি।



ব্যারেন দ্বীপের চারপাশে স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য পূর্বের ডাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। কোনও মুরিং লাইন নেই, খুব বেশি জায়গা নেই যেখানে একটি নৌকাও নোঙ্গর ফেলে দিতে পারে, তাই নেতিবাচক এন্ট্রি এবং ফ্রি ডাউনরেন্টগুলি ছিল কীভাবে আমরা সাধারণত জলে প্রবেশ করতাম। আমাদের নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে প্রতি ডুবুরির আগে আমরা প্রতিটি ডুবুরির কাছে সুরক্ষার পদ্ধতিগুলি আরও জোরদার করেছি, কারণ ব্যারেনের চারপাশের জলরাশি সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে। প্রায়শই আমরা দেখতে পেতাম ঘূর্ণিঝড়ের মতো স্রোত দ্বীপের একপাশে ঘিরে আছে এবং দ্রুত এই দ্বীপটির আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম যেহেতু কোনও স্রোত নেই। নৌকা ছেলেরা সেই বর্তমানটিকে 'পাগলা পানী'  (পাগল জল) বলে ডাকে , কারণ আমরা কেবল বুঝতে পারছিলাম না যে  জলটি কী করছে - এটি দেখে মনে হয় না যে জোয়ার বা seasonতুতে এটির কোনও সম্পর্ক আছে।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের চারপাশে, সৈকতে এবং সমুদ্রের নীচে বালু সাদা is বিপরীতে, বরেন দ্বীপের চারপাশে সৈকত এবং জলের তলে বালু কালো black সম্ভবত আগ্নেয়গিরি নিয়মিত ধূমপান এবং দ্বীপের চারপাশের এবং পানির নীচে ছাই জমা হওয়ার কারণে। আমরা বিশ্বাস করি দৃশ্যমানতা এখানে সর্বদা পরিষ্কার থাকে সম্ভবত এই ভারী দানাদার ছাইয়ের কারণে যা পানির সমস্ত কণা ওজন করে। এর মাধ্যমে, এই গভীর নীল জলের অন্ধকার কালো পটভূমির বিরুদ্ধে মাছ এবং প্রবালের রঙগুলি উজ্জ্বলতার সাথে দাঁড়াবে।

এমনকি অভিজ্ঞ ডুবুরির জন্যও এখানে নেমে যাওয়া সবসময়ই একটি বিচলিত অভিজ্ঞতা। স্ফটিক-স্পষ্ট দৃশ্যমানতা এবং অতল গহ্বরের নিবিড় গভীরতা আপনাকে ভার্চিয়োর অনুভূতি দিতে পারে, যাতে আপনার মনে হতে পারে যে শ্বাস নেওয়ার জন্য আপনাকে এক সেকেন্ডের জন্য প্রাচীরের উপরে চেপে ধরে রাখা দরকার এবং এটি সমস্তই গ্রহণ করা উচিত ! আপনার চারপাশের জীবনের উজ্জ্বলতা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনাকে বিভ্রান্ত করবে এবং কোথায় আপনি কী করবেন তা জানেন না। প্রবাল, স্পঞ্জস, সমুদ্রের তারা এবং বর্ণা fish্য মাছের স্কুলগুলি কয়েকশ মিটার নীচে জলের উপর দিয়ে নেমে আসা জলের উপরে কালো শিলা এবং লাভা প্রবাহের বিপরীতে দেখা যায় এমন প্রথম দর্শনীয় স্থানগুলি যা আপনি আশা করতে পারেন। রৌপ্য জ্যাকগুলির স্কুলগুলি আরও বড় বড় ফিউসিলিয়ার স্কুলগুলি আপনার মাথাকে স্পিন করে তুলবে! অত্যন্ত বিষাক্ত সমুদ্র ক্রেইটগুলি এত নির্ভেজাল, এবং আপনাকে তাদের কাছে আসার অনুমতি দেয়। প্রতি ভ্রমণে আমরা এখানে কখনই করেছি, আমরা ভাগ্যবান ছিলাম রিফ হাঙ্গর এবং ম্যান্টাসের সাথে, কখনও কখনও এমনকি বিশালাকার সমুদ্রীয় মন্ত্রেও! এই জলে দেখা অন্য কয়েকটি পেল্যাগিকগুলি হ'ল ডলফিন, পাইলট তিমি, সেলফিশ এবং মারলিন, যার মধ্যে কোনওটিই তাদের পরিবেশে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য একটি পরাবাস্তব দৃশ্য।

 

সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপপ্রবাল, সমুদ্রের তারা এবং স্পঞ্জগুলি দিয়ে কালো রঙের পটভূমিগুলির বিরুদ্ধে একটি মানতা রশ্মি

সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপরূপালী বড় চোখের জ্যাকস / ট্র্যাভেলিজির স্কুল

সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপসমুদ্রের ক্রেইট সমুদ্রের সাপ বায়ু প্রশ্বাসের জন্য ভূপৃষ্ঠে সাঁতার কাটছে

সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপব্রাঞ্চিং প্রবাল, কয়েকটি স্পঞ্জ এবং কিছু নরম প্রবাল যার চারপাশে অ্যান্থিয়াস একটি শোয়াল রয়েছে

 

দ্বি-বার্ষিক জলস্তরের কথা আমরা নৌকা চালিয়েছি তাম আমরা যদি জানতে পারি যে গুড়ের দেওয়ালগুলি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে লাল, কমলা, সবুজ, নীল, দূরুনি সব ধীরে ধীরে বর্ণিত হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হয়, গ্রোটো নিখোঁত ফটোগ্রাফার স্টুডিওতে থাকা হয়। গুয়া থেকে শীঘ্রই, জাল নীচে কৃষ্ণচূড়া বালির বাল্যকালীন ওপলু তথ্য, আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপারের উপরের দিকের বৈশিষ্ট্য এবং কনট্যুরের ধ্রবকের পরিবর্তনের জন্য যেমন একটি দৃশ্যমান গাছ এবং পাথর রয়েছে যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে রে

লাবণীর জল পানির সাথে দ্বিধা-দ্বিধা-দ্বিধা-দ্বিধা-দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পৃষ্ঠার এক মিটার নীচে থেকে এই বিল্ট-আপ প্যানেল এবং লাইভ সমৃদ্ধির স্থান ফুটবলের অঞ্চল ছিল এই অগ্রীর স্থানগোষ্ঠী ড্যাপলড আলোক নম্বরের প্রব্লেমেশন যাদুকরীতে রাখা হয়েছে। আপনি যদি অন্যভাবে দেখতে পান তবে এই প্রবাল ধাধারে কিছুটা উজব্বল রঙের রিফিশ দেখেছি - আমাদের বৌদ্ধের প্রজাপতি, ধোন ফাফিশ, কিছু জানা যায়নি এমন বর্ণাত্য্য কুমারী এবং অবশ্যই আমার চিত্রকোষ - প্যালেট সার্জনফিশ, স্নেহে তাঁর ডেমি ফিন্ডিংকস্ট জা। তবে এই ডায়েভের সর্বপ্রথম মনমুগ্ধকর অংশটি আমাদের জন্তির স্পা হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে - এই নির্দিষ্ট স্থান, যা দ্বিধা অবলম্বন করা হয়, কিছু দিন আমার ডাইভ কম্পিউটারে পরীক্ষিত 50 সেলসিয়াস! তবুও, এই পর্যালোচনা জলের অনেকগুলি সমৃদ্ধি রয়েছে।

আমি প্রায় ভেবেছি, কী জানি এবং কীভাবে প্রথম দিক থেকে দর্শনের দিকে লক্ষ্য করা যায় 50 সেলসিয়াস জাল প্রস্ফুটিটস, যখন বেশিরভাগ প্রবাল জল্লাফাদার 30 সেন্টিগ্রেডের নিকটবর্তী স্থানে কোনও ব্লক শুরু হয়েছে? এটি আরও কিছু স্থিতিস্থাপক? যদি তারা আগ্নেয়গিরি থেকে একর কোট মেজাজ জমা করে দেয় তবে সে এখানে উন্নতমানের কি? আমরা এখানে কিছু নুডিব্রেঞ্চ এবং শামুকছিছি, আমি আর কোতোও দেখছি। তারা একটি নতুন প্রজাতি হয়? চমামনাদের চৌপাশে যখন অন্যদিকে মধ্যবর্তী বারান দ্বি-চারপাশে বালুচর কৃষ্ণ, শ্বেতা কি? এটি কি আগ্নেয় ছাইয়ারের মতো? এই সব কি কেবল ছাই আর বালু না? আমরা কি নীচে খাঁন থাকি শ্বেত বলি? সাদা এবং কালো থেকে নীচে বালির পরিবর্তন দেখুন পেল কি লাইনটি ঘটেছে?

জীবন এবং মৃত্যুর পুরো উত্তর এখানে অনেক উত্তর দেওয়া প্রশ্ন, কিছু অনাঙ্কিত স্থান আছে! আমি আশা করি যে একদিন আমরা আধ্যাত্মিক গণবিশ্বাসের বিষয়ে দুবকে জিজ্ঞাসা করি এবং তার সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে


দ্বীপের পশ্চিম দিকে কয়েকটি গুহা পাওয়া গেছে যা আমরা নৌকায় নিয়ে যেতাম। আমরা কাছে যাওয়ার সাথে সাথে গুহার দেওয়ালগুলি দেখে মনে হচ্ছিল সেগুলি লাল, কমলা, সবুজ, নীল, বেগুনি সব ধরণের রঙে আঁকা হয়েছে। যখন পরিস্থিতি অনুকূল হয়, গ্রোটো নিখুঁত ফটোগ্রাফারের স্টুডিওতে পরিণত হয়। গুহা থেকে বেরিয়ে আসা, জলের নীচে কালো বালির বিশাল দৈর্ঘ্যের opালু রয়েছে, আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপের কারণে উপরের পাহাড়ের আকৃতি এবং কনট্যুরের ধ্রুবক পরিবর্তন হওয়ার কারণে সম্ভবত বিশাল বিশাল গাছ এবং পাথরগুলি জলের মধ্যে দ্বীপ থেকে সরে যেতে পারে।

লাভা প্রবাহ যে পানির সাথে মিলিত হয় সেই দ্বীপের খুব কাছেই আমরা খুব অল্প অগভীর জায়গায় আমাদের ডাইভ ডে ডাইভিংটি শেষ করতাম। পৃষ্ঠের এক মিটার নীচে থেকে এই বিল্ট-আপ দেয়াল এবং লাইভ সমৃদ্ধ শক্ত প্রবালের ফুটবল ক্ষেত্র ছিল। এই অগভীর জায়গাগুলিতে ড্যাপলড আলোক নৃত্য প্রবাল চেহারাটিকে যাদুকরী করে তুলবে। আপনি যদি আরও জটিলভাবে এই প্রবাল প্রবাল ধাঁধার মধ্যে দেখতে পান তবে কিছু উজ্জ্বল রঙের রিফ মাছ দেখা যেতে পারে - দীর্ঘ নাকের প্রজাপতি, বিভিন্ন ধরণের পাইপফিশ, অনেকগুলি ভিন্ন রঙের দৈত্যাকার ক্ল্যাম এবং অবশ্যই আমার প্রিয় মাছগুলির একটি - প্যালেট সার্জনফিশ, স্নেহ করে ডেমি ফাইন্ডিং নিমো নামে পরিচিত। তবে এই ডাইভ সাইটের সবচেয়ে মনমুগ্ধকর অংশটি এমন একটি অঞ্চল ছিল যা আমরা 'জন্টির স্পা' হিসাবে উল্লেখ করতে শুরু করি - এই নির্দিষ্ট অঞ্চলে, যা দ্বীপের খুব কাছাকাছি ছিল, কিছু দিন আমার ডাইভ কম্পিউটারে জলের তাপমাত্রা বেড়েছে 50 সেলসিয়াস! তবুও, এই প্রতিকূল জলে এমনকি প্রবালগুলি সমৃদ্ধ হয়।

আমি প্রায়শই ভেবেছি যে, কেন এবং কীভাবে প্রবাল এমন উষ্ণ থেকে উত্তপ্ত 50 সেলসিয়াস জলে প্রস্ফুটিত হয়, যখন বেশিরভাগ প্রবাল জলের তাপমাত্রা 30 সেন্টিগ্রেডের উপরে উঠে যায় তবে ব্লিচ হতে শুরু করে? এই প্রবালগুলি কি আরও বেশি স্থিতিস্থাপক? অথবা তারা আগ্নেয়গিরি থেকে একরকম খনিজ জমা দিচ্ছে যা তাদের এখানে উন্নতি সাধন করছে? আমরা এখানে কিছু নুডিব্রেঞ্চ এবং শামুক দেখেছি, আমি আর কোথাও দেখিনি। তারা একটি নতুন প্রজাতি হতে পারে? আন্দামানদের চারপাশে যেখানে অন্যদিকে বরেন দ্বীপের চারপাশে বালুচর কালো, এটি সাদা কেন? এটি কি কেবল আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে? সেই সমস্ত কি কেবল ছাই আর বালু নয়? আমরা খুব নীচে খনন করা হয় সেখানে সাদা বালি আছে? সাদা এবং কালো থেকে নীচের বালির পরিবর্তন দেখতে পেল এমন লাইনটি কোথায়?

জীবন এবং রহস্য পূর্ণ এখানে প্রায় অনেক উত্তরহীন প্রশ্ন, অনেক অনাবিষ্কৃত সাইট আছে! আমি আশা করি যে একদিন আমরা একেবারে অবিশ্বাস্য বাস্তুতন্ত্রের বিষয়ে ডুব দিয়ে দেখার এবং দেখার সুযোগ পেয়েছি সে সম্পর্কে আরও জানতে কিছু প্রকারের গবেষণা পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছি।

 

সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপডুবুরিদের সাথে রাশিচক্রের নৌকা একটি গুহায় প্রবেশ করে

সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপগুহার মধ্যে ডুবুরির অর্ধ আউট শট

সম্মেলন ম্যাসাজিক: ব্যারেন দ্বিপপডুবুরিরা চারিদিকে লাইভ কোরালের ফুটবল মাঠের সাথে প্রবাল স্বর্গ সাঁতার কাটছে

 


লেখক  / 

Hayat's first-ever dive was in the Andaman islands in 2008. She fell in love with the underwater world as well as the Islands. An accomplished musician, at the time Hayat was teaching music programs to young children at the Mehli Mehta Music Foundation in Mumbai. Her pedagogical approaches and interactions had a unique developmental interaction impact on her pupils. In 2012 she moved to the Andaman islands and started working for a dive company where she worked her way up to becoming an instructor by 2013. Since then she has dived and worked largely in the Andamans, first at a research station, post which she was one of the few instructors there to live and work on the only Live-aboard operating in the islands. This allowed her to dive-explore some parts of the Andamans where very few people have ventured. She now lives and works at Havelock island through most of the dive season and is also a partner of a company called Earth Colab (www.earthcolab.com) where she facilitates diving and educational programs. Her strong administrative and organisational skills, along with a deep interest in wildlife have made her an integral part of many marine education programs, researcher dive training initiatives, scientific diving module development, and citizen-science efforts.